ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেমন আমাদের কাজ সহজ করছে, তেমনি তৈরি করছে নতুন ঝুঁকিও। এর মধ্যে অন্যতম হলো এআই ভয়েস ক্লোনিং যেখানে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বর নকল করে হুবহু একই রকম শোনানো অডিও তৈরি করা যায়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অডিও নমুনা পেলেই উন্নত এআই মডেল সেই কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ করে নতুন বাক্য তৈরি করতে পারে। ফলে প্রতারণা, ভুয়া খবর ছড়ানো, আর্থিক জালিয়াতি এমনকি ব্যক্তিগত ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘটনা বাড়ছে। তাই এখন বড় প্রশ্ন এআই দিয়ে তৈরি নকল কণ্ঠস্বর কীভাবে শনাক্ত করবেন? ১. অস্বাভাবিক টোন ও আবেগহীনতা লক্ষ্য করুন। মানুষের কণ্ঠে স্বাভাবিক ওঠানামা, আবেগের সূক্ষ্ম পরিবর্তন, শ্বাস নেওয়ার শব্দ ইত্যাদি থাকে। কিন্তু অনেক সময় এআই-জেনারেটেড ভয়েস অতিরিক্ত নিখুঁত বা একঘেয়ে শোনাতে পারে। কথার মাঝে অস্বাভাবিক বিরতি, ভুল জায়গায় জোর দেওয়া বা আবেগের অসামঞ্জস্য থাকলে সন্দেহ করা যেতে পারে। ২. প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করুন। যদি হঠাৎ পরিচিত কারও কণ্ঠে জরুরি অর্থ চাওয়া, পাসওয়ার্ড জানাতে বলা বা অস্বাভাবিক কোনো অনুরোধ আসে, তাহলে সরাসরি বিশ্বাস না করে অন্য মাধ্যমে যোগাযোগ করুন। ফোন কলে পাওয়া নির্দেশনা যাচাই করতে আলাদা নম্বরে কল করা বা ভিডিও কলে নিশ্চিত হওয়া নিরাপদ উপায়। ৩. অডিও বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান এআই-ভিত্তিক ডিপফেক শনাক্তকরণ সফটওয়্যার তৈরি করেছে, যা অডিওর ফ্রিকোয়েন্সি, প্যাটার্ন ও ডিজিটাল আর্টিফ্যাক্ট বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারে সেটি কৃত্রিমভাবে তৈরি কি না। বড় প্রতিষ্ঠান বা গণমাধ্যম সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে এ ধরনের টুল ব্যবহার শুরু করেছে। ৪. ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সামাজিক মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ভয়েস ক্লিপ শেয়ার না করা, পাবলিক প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ অডিও আপলোড কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা উচিত। কারণ আপনার কণ্ঠস্বরই হতে পারে প্রতারকদের টার্গেট। ৫. আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া দরকার। যদি কেউ আপনার কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রতারণা করে, তাহলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করা উচিত। অনেক দেশে ডিপফেক ও ভয়েস ক্লোনিং অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন শুরু হয়েছে। আরও পড়ুনডিজিটাল ডিভাইস শিশুর জন্য যেন মরণফাঁদচ্যাটজিপিটি দিয়ে ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন কেএসকে