পিলখানা হত্যাকাণ্ড: মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে সাক্ষীদের ওপর চলে ‘অমানুষিক নির্যাতন’

সাক্ষীদের অমানুষিক নির্যাতন করে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ানো হয় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায়। তাতেও মেলেনি রেহাই, কারাভোগ করতে হয়ে ১৬ বছর। শুধু নিজের জীবন নয়, এ ঘটনায় অসংখ্য বিডিআর সদস্যদের পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার।২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, এক ভয়ঙ্কর কালো দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে। বিদ্রোহের নামে পিলখানায় চালানো হয় ইতিহাসের নির্মম হত্যাযজ্ঞ। একই দিনে হত্যা করা হয় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে। ভয়ঙ্কর সেই হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী ও আসামি সাবেক বিডিআর সদস্য বারেকুজ্জামান বারেক। হত্যাযজ্ঞের ১৬ বছর পর জামিনে মুক্তি মিলেছে। কিন্তু সারা শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন অমানুষিক নির্যাতনের ক্ষত। তিনি বলছেন, মিথ্যা সাক্ষীর জন্য প্লাস দিয়ে তুলে নেয়া হয়েছে নখ। নির্যাতনে ব্যবহার করা হয়েছে ধারালো অস্ত্র আর গরম পানি। তিনি বলেন, মিথা সাক্ষ্য দিতে বলা হয়। না দিলে জেলে যেতে হবে বলা হয়। নখ উপড়ে ফেলাসহ নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। অমানবিক সেই নির্যাতনের পরেও মুক্তি মেলেনি। কারাভোগ করতে হয়েছে ১৬ বছর। মামলার বোঝায় স্ত্রী-সন্তানদের হাত পাততে হয়েছে দুয়ারে দুয়ারে। আরও পড়ুন: পিলখানা হত্যাযজ্ঞ: বিচারের অপেক্ষায় শহীদ সেনা পরিবারগুলো মামলার প্রসিকিউটর ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, মামলাটি রাজনৈতিক অভিলাষ ও ষড়যন্ত্রের অংশ। তাই মূল ষড়যন্ত্রকারিরাই আছে আসামি তালিকার বাইরে। বিডিআর বিস্ফোরক মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘রাজনৈতিক অভিলাষ ও দুরভিসন্ধি আছে। এ বিষয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত সাক্ষী সেনা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এসেছে।’ আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন বলেন, ‘এ কর্মকাণ্ড যারা ঘটিয়েছেন, তারা আসামি হননি। এ ঘটনার কুশীলবরা আসামি হননি। নিরীহরা আসামি হয়েছেন।’ আরও পড়ুন: পিলখানা হত্যাকাণ্ড: তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এলো নেপথ্যের কুশীলবদের নাম ভুক্তভোগীরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্বে এসেছে। তাদের আশা, বর্তমান বিএনপি সরকার বিডিয়ার হত্যাযজ্ঞের তদন্ত করতে যে নতুন কমিশনের কথা জানিয়েছে, এর মধ্য দিয়ে উঠে আসবে এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের সত্যিকার কারণ। আর মিলবে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার।