নাটোর বাসস্ট্যান্ডে জায়গা না থাকায় মহাসড়কেই ঝুঁকিপূর্ণ পার্কিং, ঘটছে দুর্ঘটনা

নাটোর শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় চরম শৃঙ্খলার অভাব ও নিরাপত্তার ঝুঁকি প্রকট হয়ে উঠেছে। জেলার বাস মালিকদের অধীনে সাড়ে তিন শতাধিক যাত্রীবাহী বাস থাকলেও প্রধান বাস টার্মিনালটিতে সংকুলান হচ্ছে মাত্র ৮০টি বাসের। ফলে বাধ্য হয়ে প্রতি রাতে কয়েকশ বাস রাখা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে, যা প্রতিনিয়ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।শহরতলীর হরিশপুরে অবস্থিত প্রায় ৪ বিঘার এই বাস টার্মিনালটি ২০০৭ সাল থেকে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ দেড় দশকেও বাড়েনি এর পরিধি। সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালটিতে সর্বোচ্চ ৮০টি বাস সুশৃঙ্খলভাবে রাখা সম্ভব। জায়গা না পেয়ে বাকি দুই শতাধিক বাস হরিশপুর এলাকা এবং মাদ্রাসা মোড়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে রাখা হচ্ছে।মাহাসড়কের পাশে বাসগুলো থাকায় অধিকাংশ সময় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এলাকায় বাস পার্কিংয়ের সময় দুটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষ হয়।এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া ছোটোখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে পার্কিং এলাকায়। দুর্ঘটনায় পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় থাকে যাত্রীবাহী বাসগুলো। বাসগুলোর নিরাপত্তার জন্য নতুন বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের দাবি করেন মালিক ও চালকরা।বাস মালিক ও চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে পৌরসভার টোল আদায় নিয়ে। চালক আব্দুস সামাদ জানান, টার্মিনালে বাসের জায়গা হয় না, তবুও প্রতিদিন পৌরসভাকে নির্ধারিত ৫০ টাকা হারে টোল দিতে হয়।বাস মালিক রাশেদ বলেন, 'আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে বাস রাখছি। একদিকে বাসের নিরাপত্তা নেই, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালটি বড় করার দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।'আরও পড়ুন: ‘ঢাকায় পরিবহন থেকে দিনে সোয়া ২ কোটি টাকা চাঁদাবাজি’নাটোর জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি প্রশান্ত কুমার পোদ্দার লক্ষণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বাস টার্মিনাল ব্যবহার করতে না পারলেও প্রতিটি বাস থেকে পৌরসভা ঠিকই ৫০ টাকা করে নিচ্ছে। বাসের নিরাপত্তা ও টার্মিনাল সম্প্রসারণের জন্য গত ৫ বছর ধরে আমরা পৌরসভার দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাইনি।'এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাটোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে শহরের ভবানীগঞ্জ এলাকার পুরোনো বাস টার্মিনালটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর হরিশপুরের এই বর্তমান টার্মিনালটি চালু করা হয়। তবে দীর্ঘ সময়েও বাসের সংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি টার্মিনালের আয়তন।