রমজানকে পুঁজি করে খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাজারে ইফতার সামগ্রী ও ফলের দাম আকাশচুম্বী। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কলার দাম ডজনে ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লেবু, আনারস ও পেঁপের দাম। বাজারের এমন অস্থিরতায় ক্রেতারা সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ী করলেও সরবরাহ সংকটের অজুহাত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানের আগে যে কলার ডজন ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। যা কলার দাম প্রায় সরাসরি দ্বিগুণ বেড়েছে। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ লেবুর দামও আকাশচুম্বী। ৫-১০ টাকা পিসের লেবু এখন ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার ভেদে এক হালি লেবু ৮০ থেকে ১০০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে। তাছাড়া আনারস প্রতিটিতে দাম বেড়েছে ১৫-২০টাকা। অন্যান্য ফলের মধ্যে প্রতি কেজি পেয়ারা ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০-১২০টাকা, পেঁপে ৬০-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১০০ টাকায়, তবে আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে আম্বর খেজুর ১৬০০ টাকা, আজওয়া ১০০০ টাকা, কালো আঙুর ৫৫০ টাকা এবং ফৌজি আপেল ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে বড়ই বা কুলের বাজারে। দাম কমেছে বল সুন্দরী ও আপেল কুলের। বাজারে বল সুন্দরী বড়ই প্রতি কেজি এখন ৫০-৬০ টাকা, যা আগে ছিল ৮০-১০০ টাকা, আপেল কুল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে। বাজার করতে আসা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোজা আসার সঙ্গে সঙ্গে কলার দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এক হালি কলা এখন ৩০ টাকা (১২০ টাকা ডজন), যা আগে অর্ধেক ছিল। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য ফল কেনা এখন বিলাসিতা। আরেক ক্রেতা রহিমা আক্তার বলেন, রোজার আগে ৫-১০ টাকায় লেবু কিনেছি। এখন একলাফে ২০-২৫ টাকা পিস হয়ে গেছে। রোজা রেখে আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে এত দামে লেবু কিনে শরবত খাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র মিশর বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, বাজারে অন্য সব ফলের দাম আগের তুলনায় বেশি হলেও বল সুন্দরী ও আপেল কুলের দাম কিছুটা কম থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি স্বস্তিদায়ক। জুয়েল ফ্রুটস স্টোরের ব্যবসায়ী মো. জুয়েল এবং সবজি বিক্রেতা মো. সুমন জানান, রমজানে চাহিদা বাড়লেও সে তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি বাজারে দাম বেশি। তাই তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। কনজ্যুমারস রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি)-এর জেলা সহ-সভাপতি বিনোদন ত্রিপুরা বলেন, কিছু দোকানে পণ্যমূল্যের ব্যাপক গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় তালিকা অনুযায়ী বিক্রি করলেও অভিযান শেষে আবার দাম বাড়িয়ে দেন। আমরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার দিপক কুমার শীল বলেন, রমজানে চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। যে-কোনো ধরনের অনিয়ম পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে। প্রবীর সুমন/কেএইচকে/এমএস