সংঘাত এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তির কাছাকাছি তেহরান বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার আগে এ কথা বললেন আরাঘচি।ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চলমান হুমকির প্রেক্ষিতে আরাঘচি বলেন, একটি অভূতপূর্ব চুক্তিতে পৌঁছানোর ঐতিহাসিক সুযোগ সামনে। যা নির্ভর করছে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে কিনা তার উপর।মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এক বিবৃতিতে, ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আরও বলেন, তার দেশ কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এই বিষয়ে তারা পরিষ্কার। একই সাথে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়ার অধিকার ইরানের জনগণের আছে- তাও বলেন আরাঘচি। আরও পড়ুন:একটি নতুন তুর্কি হুমকির উদ্ভব হচ্ছে: ইসরাইলওমানের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে পরোক্ষ আলোচনা। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এটি তৃতীয় দফার আলোচনা। ওমান জানিয়েছে, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য আরও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার আশা করছে তারা।এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনে তার স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও তেহরানের প্রতি যুদ্ধাত্মক সুরে কথা বলেন। তবে তিনি কূটনীতির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান পছন্দ করেন বলে জানান। তবে ইরানকে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অভিযোগ করেন যা শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারে। এমন কথাও বলেন ট্রাম্প।ট্রাম্প বলেন, ‘কূটনীতির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা আমার পছন্দ। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত, আমি কখনই বিশ্বের এক নম্বর ‘সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক দেশকে’, পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করতে দেব না।’ট্রাম্প বলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর, তাদের সতর্ক করা হয়েছিল যে ভবিষ্যতে তাদের অস্ত্র কর্মসূচি, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র পুনর্নির্মাণের কোনো প্রচেষ্টা না করার জন্য - তবুও তারা অব্যাহত রেখেছে। আরও পড়ুন:আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জবাব হবে কঠোর: ইরানইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরাঘচি, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন।