পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে সরকার কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে’ বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন সরকার দুটি কমিটি করেছিল। কিন্তু কমিটির রিপোর্টগুলো শেষ পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটা স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। সেই কমিশনের রিপোর্ট আমাদের সামনে এসেছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকারে এসেছি অল্প কিছু দিন হলো। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ রিপোর্ট তারা হাতে পেয়েছে। সেই রিপোর্ট বাস্তবায়নের জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আমি দুয়েক দিন দেখেছি; কিন্তু আমি কয়েক দিন আগে রিপোর্টটা পুরো না দেখেই কিছু কথা বলেছি, যেগুলো আজকে সংশোধন করতে চাই। আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন করবো না, যেহেতু জাতীয় একটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন হয়েছে এবং তারা দক্ষ উপযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারাই গঠন করেছে।’ আরও পড়ুন: পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের রিপোর্টে আমি এক পলকে যা দেখেছি, তাতে প্রায় ৭০টির মতো সুপারিশমালা এসেছে। আমি আরও বিস্তারিত দেখব। সেই সুপারিশমালার অনেকগুলো বাস্তবায়নাধীন, আর বিচারাধীন যে মামলাগুলো আছে, কিছু আপিল পর্যায়ে আছে, কিছু এপিলেট ডিভিশনেও হয়তো আছে, এই জুডিশিয়াল প্রক্রিয়াটা সমাপ্ত করা হবে। আর অন্যান্য যেসব সুপারিশমালা আছে, এগুলো আমরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবো। এই রিপোর্টটা প্রকাশ হবে কি না-- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নিয়ে আমি মন্ত্রণালয়ে আমাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে পরে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।’ শহীদ পরিবারদের আশ্বস্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যাতে এ জাতীয় কোনো ঘটনা আমাদেরকে ভবিষ্যতে আর দেখতে না হয়। সেজন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়া জরুরি, সব আমরা নেব।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি ছিল এ ঘটনা এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা লক্ষ্য ছিল। সেটা তাদেরই থাকতে পারে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না অথবা একটা দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে এ দেশকে দেখতে চায়। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় হত্যা করা হয় ৫৭ সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে। আরও পড়ুন: পিলখানা হত্যাকাণ্ড: মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে সাক্ষীদের ওপর চলে ‘অমানুষিক নির্যাতন’ পিলখানা হত্যাকাণ্ডে বিডিআরের ১৩৯ জন সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৮৩ জনকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত। তবে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা বিচারিক আদালতে এখনো চলমান। আসামিপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, হত্যা মামলায় খালাস পেলেও প্রায় এক যুগ ধরে দ্বিতীয় মামলায় কারাভোগ করছেন অনেকে। বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ সাক্ষীর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ।