২৬ বছর ধরে বাজার থেকে শাক-সবজি কেনেন না পল্লব

নড়াইল পৌরসভার ভাদুলীডাঙা এলাকায় পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে মো. পল্লব গড়ে তুলেছেন বিষমুক্ত ফল ও শাক-সবজির বাগান। বাড়ির আঙিনায় ২০ শতাংশ জমিতে তিনি তৈরি করেছেন এ বাগান। এখানে আছে নানান রকমের ফল গাছ ও শাক-সবজি। ২৬ বছর ধরে তিনি বাজার থেকে শাক-সবজি কেনেন না বলে জানিয়েছেন। শাক-সবজির মধ্যে আছে—বিটরুট, গাজর, বালিয়া শাক, ডাটা শাক, বাঁধাকপি, থানকুনি শাক, ধনিয়া শাক, টমেটো, চুই ঝাল, ওলকপি, বেগুন, টমেটো, পেঁপে, পুদিনা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, লাল শাক, পালং শাক, কাটানোটে শাক, পোড়ানোটে শাক, মুলা, রেট ক্যাবেজ, ফুলকপি, শিম, মানকচু, লতিকচু, দস্তারিকচু, ডাঙ্গাইড়কচু, ঘটকচু, পুই শাক, শসা, মরিচ ও ক্যাপসিকাম। ফলের মধ্যে আছে—মালবেরি, রামবুটান, গোলাপজাম, কলা, পেয়ারা, রয়েলফল, আম, আপেলকুল, ঝারালেবু, বাতাবি লেবু। এ ছাড়া আছে দারুচিনি, তেজপাতা এবং এলাচের মতো মসলার গাছ। আরও পড়ুনমাগুরায় বরই চাষে বাড়ছে উৎপাদন ও বাজার চাহিদা  উদ্যোক্তা মো. পল্লব বলেন, ‌‘পরিবারের পুষ্টিসমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় খাবার তৈরিতে, সুস্থ থাকতে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাই পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ২০০১ সাল থেকে নিজের শ্রমে তৈরি করেছি বিষমুক্ত ফল ও শাক-সবজির বাগান। প্রতিদিন শরীরের জন্য যে পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন, সে হিসেবে খাবার তৈরি করি।’ তিনি বলেন, ‘পরিবারকে সুস্থ রাখতে নিয়ম করে পুষ্টিকর খাবার তৈরি করছি। এসবের জোগান দিচ্ছি নিজের সবজির বাগান থেকে। অতিরিক্ত যে সবজি হয়; সেটা আত্মীয়-স্বজন ও ভাই-বন্ধুদের উপহার হিসেবে দিই। আমি ২৬ বছর ধরে বাজার থেকে কোনো শাক-সবজি কিনি না।’ তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, ‘যাদের বাড়ির আঙিনায় একটু জমি আছে বা বাড়িতে ছাদ আছে; তারা বিষমুক্ত সবজি বাগান করুন। এতে পরিবারের সঠিক পুষ্টি চাহিদা মিটবে। পাশাপাশি অর্থের অপচয়ও কমবে।’ আরও পড়ুনকরোনাকালে চাকরি হারিয়ে মৌচাষে সফল শাহ আলম  নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘এই কৃষি উদ্যোক্তাকে সাধুবাদ জানাই। যাদের বাড়ির আঙিনায় সামান্য একটু জায়গা আছে; তার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে পারিবারিক পুষ্টি বাগান গড়ে তুলতে হবে। তাহলে খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে। এসব বাগানের শাক-সবজি নিরাপদ ও বিষমুক্ত। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।’ এসএমএইচকে/এসইউ