নাটোরে মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন ৪০০ বছরের মসজিদ, সংস্কারের অভাবে হারাচ্ছে জৌলুস

সোনালী রঙের তিনটি গম্বুজ আর মুঘল স্থাপত্যশৈলীর নিখুঁত কারুকাজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বৃ-চাপিলা শাহী জামে মসজিদ। প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখন অযত্ন আর সংস্কারের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি রক্ষায় সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।উপজেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়ন অনুযায়ী, সম্রাট শাহজাহানের শাসনকালে (১৬২৮-১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দ) এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।স্থানীয়দের বর্ণনা ও ইতিহাস থেকে জানা যায়, মুঘল আমলে এ গ্রামে মুঘল সেনাদের ফাঁড়ি ছিল। সাধারণ মানুষেরও বসবাস ছিল চাপিলায়। সে সময় স্থাপন করা হয় এই মসজিদ। মুঘল আমলে কলেরা রোগের কারণে পুরো এলাকার মানুষ এখান থেকে অন্যত্র চলে যান। জনশূন্য এই জনপথ পরে জঙ্গলে ভরে যায়। ১৯৪৭ সালের পর এই এলাকায় মানুষ আবার বসবাস শুরু করেন। সে সময় জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় মসজিদটি পান স্থানীয়রা। বাঘের ভয়ের মধ্যেও জঙ্গলে মধ্য মসজিদটিতে সে সময় থেকে নামাজ শুরু করেন স্থানীয়রা।ইট-সুরকি দিয়ে নির্মিত এই মসজিদের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২০ ফুট। এর সোনালী রঙের তিনটি গম্বুজ ও তিনটি প্রবেশদ্বার যে কারো দৃষ্টি কাড়ে। মুসল্লি সংখ্যা বাড়ায় ১৯৯০ সালের পর মূল অংশ অক্ষত রেখে মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। চুন-সুরকির প্রাচীন দেয়ালগুলো এখন জীর্ণ হয়ে পড়েছে। সংস্কার না করায় মূল কাঠামোর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।আরও পড়ুন: মুসলিম ঐতিহ্যের সাক্ষ্য গালুয়ার সেই পাকা মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা সাবিবুল হাসান বলেন, 'সাবিবুল হাসান বলেন, এই মসজিদটি তাদের এলাকার ঐতিহ্য। এটি যেন শেষ না হয়ে যায়। চুন সুরকি দিয়ে মুগল আমলের স্থাপিত দেয়াল গুলো সংস্কার জরুরী হয়ে উঠেছে। সরকার দ্রুত এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেবেন এই দাবি করেন তিনি।'