রাঙামাটির ভাসমান হাটে কমেছে আনারসের দাম, হতাশ চাষিরা

রাঙামাটির একমাত্র ভাসমান হাট সমতা ঘাটে সারা বছর মৌসুমভিত্তিক বিভিন্ন ফলের বেচাকেনা হয়। কৃষকরা সরাসরি নৌকায় করে ফল নিয়ে আসেন বলে এখানে কোনো ফড়িয়া ছাড়াই ব্যবসায়ীরা ফল কিনতে পারেন। বর্তমানে এই হাটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আনারস।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, হ্রদের বুকে সারি সারি আনারস বোঝাই নৌকা। ব্যবসায়ীরা ঘুরে ঘুরে আনারস কিনছেন। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো হাট। তবে রমজানের প্রথম হাটে যে আনারস আকারভেদে ১০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এখন তা ৬ থেকে ২৮ টাকায় নেমে এসেছে। এতে হতাশ কৃষকরা। বন্দুকভাঙ্গা থেকে আসা কৃষক কিরণ চাকমা জানান, গত হাটে প্রতি ১০০টি আনারস ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছিলাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই দাম কমে হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থাৎ ১০০টি আনারসে ১ হাজার ৭০০ টাকা কমে গেছে। শ্রমিকের মজুরি, নৌকা ভাড়া কিছুই কমেনি। এই দামে বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না। চাষি বিনয় চাকমা বলেন, গত হাটে ভালো দাম দেখে এক নৌকা আনারস নিয়ে এসেছিলাম। দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছি, তবে খুশি নই। ধারণা ছিল আড়াই লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে। কিন্তু সার, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বাড়তে থাকায় লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। রমজানে ভালো দাম পাব আশা করলেও তা হয়নি। আরও পড়ুন: ‘আনারসের রাজধানীতেই’ লোকসান আতঙ্কে চাষিরা! ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী আমিরুল হক জানান, রমজান হলেও খুচরা পর্যায়ে আনারসের চাহিদা কম। গত সপ্তাহে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। রাঙামাটির পাইকারি বাজারে যে দামে আনারস বিক্রি হচ্ছে, ঢাকার খুচরা বাজারেও প্রায় সেই দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। নীলফামারী থেকে আসা ব্যবসায়ী ছাদেকুর ইসলাম বলেন, কম দামে কিনলেও পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় লাভ থাকে না। এক ট্রাক আনারস নীলফামারী নিতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া লাগে। এছাড়া পরিবহনজনিত ক্ষতিও রয়েছে। প্রতিটি আনারসে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রাঙ্গামাটির চাষিরা পরিকল্পনা করে আনারস চাষ করেন। ফলে প্রায় সারা বছরই আনারস পাওয়া যায়। রমজানকে সামনে রেখে অনেক কৃষক বেশি আনারস উৎপাদন করেছেন। তবে শীতকাল হওয়ায় চাহিদা কিছুটা কম থাকায় দাম কমেছে। এতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে বলে মনে হয় না। তবে তিনি আরও বলেন, পাইকারি বাজার থেকে কম দামে কিনে খুচরা বাজারে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করা নৈতিক নয়। যেমন বড় আনারস ২৮ টাকায় কিনে পরিবহন ও নষ্টজনিত খরচ ১০ টাকা ধরলে মোট খরচ দাঁড়ায় ৩৮ টাকা। সেখানে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করা ব্যবসার নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাঙ্গামাটিতে চলতি বছর ২ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।