রমজানের প্রথম সপ্তাহে দুবাইয়ে ভিক্ষুকবিরোধী অভিযান, গ্রেফতার ২৬

পবিত্র রমজানের প্রথম সপ্তাহেই সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি দমনে জোরদার অভিযান চালানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন জাতীয়তার ২৬ জন ভিক্ষুককে গ্রেফতার করেছে দুবাই পুলিশ। দুবাই পুলিশের সাধারণ অপরাধ তদন্ত বিভাগের অধীন সন্দেহজনক ব্যক্তি ও অপরাধ প্রবণতা দমন শাখা শহরজুড়ে সব থানার সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে। প্রতিবছরের মতো এবারও ‘ভিক্ষুকবিরোধী অভিযান’ শীর্ষক বার্ষিক কর্মসূচির আওতায় এ কার্যক্রম চলছে, যার স্লোগান- ‘সচেতন সমাজ, ভিক্ষুকবিহীন সমাজ’। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নগরীর শৃঙ্খলা, আধুনিক ভাবমূর্তি রক্ষা ও ভিক্ষাবৃত্তিকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে রয়েছে দুবাই আবাসন ও বিদেশি নাগরিক অধিদপ্তর এবং ইসলামিক বিষয়ক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম বিভাগ। প্রতি বছরই মিলছে ফল, বলছেন কর্মকর্তারা দুবাইয়ের সন্দেহজনক ব্যক্তি ও অপরাধ প্রবণতা দমন শাখার পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আলি সালেম আল শামসি বলেন, প্রতি বছরই এই অভিযান উল্লেখযোগ্য সাফল্য দিয়ে আসছে। ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ধারাবাহিকতা ভিক্ষার ঘটনা কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রমজানের প্রথম সপ্তাহে ২৬ জনের গ্রেফতার সেই সক্রিয় তৎপরতারই প্রমাণ। তিনি জানান, দুবাই পুলিশ ভিক্ষাবৃত্তির পদ্ধতি কীভাবে বদলাচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে নজরদারি করে ও সে অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক কৌশল ঠিক করে। রমজানের দান-অনুদানের আবহকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে থাকে। কখনও শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে সামনে এনে মানুষের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করা হয়। এমন একাধিক ঘটনাও শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধু অনুমোদিত সংস্থায় দানের আহ্বান আল শামসি বলেন, প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে সহায়তা পৌঁছাতে হলে অবশ্যই অনুমোদিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দান করা উচিত। রাস্তায় বা অনলাইনে ভিক্ষার আবেদন দেখলে সাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দুবাই পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভিক্ষুক দেখলে ৯০১ নম্বরে ফোন করে বা দুবাই পুলিশ স্মার্ট অ্যাপের ‘পুলিশ আই’ সুবিধা ব্যবহার করে জানানো যাবে। অনলাইনে ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা জানাতে হবে ই-ক্রাইম প্ল্যাটফর্মে। সূত্র: গালফ নিউজ এসএএইচ