আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগেই বিদায়ের শঙ্কায় স্বাগতিক ভারত। ডেভিড মিলারের ৩৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে ভর করে প্রোটিয়ারা ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান তুলেছিল, জবাবে লক্ষ্যের চেয়ে ৭৬ রান দূরে থাকতেই অলআউট হয়ে যায় ভারতীয়রা। লজ্জাজনক এই হারের পর ভারতের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আরজে প্রিন্সি পারিখের একটি রিল ভাইরাল হয়। যা তার জীবনে বিপদ ডেকে এনেছে।আহমেদাবাদে ম্যাচ শেষে পারিখ তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে মিলারের সঙ্গে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যার ক্যাপশন ছিল: 'ডেভিড মিলার! দুর্দান্ত একজন খেলোয়াড়। ভিডিওতে দেখা যায়, পারিখ মিলারকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন। ভিডিওর ভেতরের লেখায় ছিল: 'ডেভিড, আমি ভেবেছিলাম আমরা বন্ধু।'এরপর পারিখ অভিযোগ করেন, রিল প্রকাশের পর তিনি 'ধর্ষণের হুমকি' এবং শরীর নিয়ে ভয়ানক কটূক্তির শিকার হয়েছেন। এর জেরে তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে রিলটি মুছে ফেলতে বাধ্য হন। তবে ভিডিওটি এখনও তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে। তিনি জানান, এই হুমকির বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করবেন।এদিকে, ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান সুপার এইট পর্বে ভারতের বিপক্ষে জয়ের পর চাপের মুখে দক্ষিণ আফ্রিকার ধৈর্যের প্রশংসা করেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, ম্যাচ জেতাতে ডেভিড মিলার ও দেভাল্ড ব্রেভিসের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরাহর দুর্দান্ত স্পেলের কথাও বলেন। আরও পড়ুন: ক্যানসার আক্রান্ত বাবার পাশে থাকতে বিশ্বকাপের দল ছাড়লেন রিঙ্কুপাঠান বলেন, 'দক্ষিণ আফ্রিকা যেভাবে তিন উইকেট হারিয়েছিল, তখন বুমরাহ অসাধারণ বল করছিল। কিন্তু এরপর মিলার তার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছেন। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা একজন ক্রিকেটার হিসেবে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপ ফাইনালে সুযোগ হারানোর পর আহমেদাবাদের এই বড় স্টেডিয়ামে তিনি প্রত্যাবর্তন করতে চান। আর ঠিক দল যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই তিনি অর্ধশতক করে তা প্রমাণ করেছেন।' View this post on Instagram A post shared by RJ Princy Parikh (@princyparriikh) মিলারের শান্ত ও পরিণত ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্থিতিশীল করে এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আরও পড়ুন: ইতালির ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগে তোলপাড়পাঠান আরও বলেন, ব্রেভিসও পরিস্থিতি সামলাতে অসাধারণ পরিপক্বতা দেখিয়েছেন, বিশেষ করে দল যখন তিন উইকেটে বিপর্যস্ত ছিল। ব্রেভিসের ৪৫ রানের ইনিংস এবং মিলারের সঙ্গে তাঁর জুটি ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।তিনি যোগ করেন, 'ব্রেভিসের ৪৫ রানের ইনিংসটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জুটি না হলে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ জিততে পারত না। এটি ছিল খুবই পরিণত ইনিংস। শুরুতে তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তিনি সতর্কভাবে খেলেছেন। সাধারণত ব্রেভিস দ্রুত বড় শট খেলেন, কিন্তু ১৮০ স্ট্রাইক রেটে খেলা একজন ব্যাটার হয়েও তিনি শুরুতে সময় নিয়েছেন, জুটি গড়েছেন, আর সেই জুটিই দলকে প্রয়োজনীয় স্থিতি দিয়েছে।'