মাত্র চার বছর বয়সেই শুরু করেন অভিনয়জীবন। শিশুশিল্পী হিসেবে তামিল ছবিতে তার অভিষেক। এরপর ধীরে ধীরে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সত্তরের দশকের শেষ দিকে পা রাখেন বলিউডে। বলছি কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবীর কথা। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সময় যতই গড়িয়ে যাক না কেন, তার উপস্থিতি যেন এখনও রয়ে গেছে পর্দার আলোয়, দর্শকের হৃদয়ে।১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট তামিলনাড়ুতে জন্মেছিলেন শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গের আয়াপ্পন। পরবর্তীকালে দুনিয়া যাকে চেনেন শ্রীদেবী নামে। একের পর এক সুপারহিট সিনেমা প্রতিটিতেই নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন নতুনভাবে। রোমান্টিক, কমেডি কিংবা আবেগঘন চরিত্র সব জায়গাতেই তিনি ছিলেন অনন্য। ক্যারিয়ারে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য পদ্মশ্রী, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মতো অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন শ্রীদেবী। প্রায় পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মালয়ালম ও কন্নড় ভাষাসহ তিনি অভিনয় করেছেন তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে। এমনকি নব্বইয়ের দশকে ছিলেন বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন। আরও পড়ুন: শাহরুখের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কথা ফাঁস করলেন গোবিন্দ! দীর্ঘ বিরতির পর ২০১২ সালে ইংলিশ ভিংলিশ সিনেমার মাধ্যমে প্রত্যাবর্তন করে আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু তারকা নন, তিনি একজন অসাধারণ অভিনেত্রী। তবে সেসময় কে জানতো ২০১৭ সালে ‘মম’তায় হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ সিনেমা। ২০১৮ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান শ্রীদেবী। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে দুবাইয়ের এক হোটেলে রহস্যময় মৃত্যু হয় এই তারকার। তার আকস্মিক চলে যাওয়া পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। আরও পড়ুন: সালমান খানের বাবাকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন শাহরুখ খান আজ আট বছরেও উন্মোচিত হয়নি তার মুত্যুরহস্য। তার অকালপ্রয়াণ ঘিরে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা থামেনি আজও। তবু মৃত্যু তাকে মুছে দিতে পারেনি। শ্রীদেবী মানেই এক অনন্ত জ্যোতি যিনি রূপালি পর্দায় বেঁচে থাকবেন চিরকাল।