লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার বেশিরভাগ মানুষের মুখের ভাষা স্প্যানিশ। আর্জেন্টিনার রোসারিওতে জন্ম নেয়া লিওনেল মেসি ক্যারিয়ারের বড় অংশই কাটিয়েছেন স্পেনের ক্লাব এফসি বার্সেলোনার হয়ে খেলে। স্বাভাবিকভাবেই স্প্যানিশ ভাষার বাইরে ভিন্ন কোনো ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি এই মহাতারকা। কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষভাগে বার্সা ছেড়ে পিএসজি এবং এমএলএসের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেয়ার পর বিপদটা টের পেয়েছেন তিনি।ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে লিওনেল মেসি মাঝে মাঝে নিজেকে ‘অর্ধেক অজ্ঞ’ মনে করেছেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে যখন ‘অসাধারণ ও বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বদের’ সঙ্গে কথা বলার সুযোগ এসেছে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও এমএলএসের ক্লাব ইন্টার মায়ামির এই অধিনায়ক স্বীকার করেছেন যে ছোটবেলায় ইংরেজি না শেখার জন্য তিনি অনুতপ্ত।২০২৩ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ছেড়ে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেন মেসি। এই ৩৮ বছর বয়সী বলেন, ‘লজ্জার কারণে আমি ইংরেজিতে কথা বলি না, তবে সব বুঝতে পারি।’ মাঠেই পারফরম্যান্স দিয়ে কথা বলাটাই তিনি পছন্দ করেন। তার নেতৃত্বে মিয়ামি গত মৌসুমে জিতেছে এমএলএস কাপ। এছাড়া বিগত বছরগুলোতে সাপোর্টার্স’ শিল্ড ও লিগস কাপ। পাশাপাশি এমএলএস গোল্ডেন বুট জিতে ও বিভিন্ন রেকর্ড ভেঙে তিনি আবারও নিজের অনন্য প্রতিভার ছাপ রেখেছেন।‘মিরো দে আত্রাস’ পডকাস্টে মেসি বলেন, ‘ছোটবেলায় ইংরেজি না শেখাটাই আমার বড় আফসোস। অন্তত পড়াশোনা করতে পারতাম, কিন্তু করিনি। এর জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত। অনেক সময় অসাধারণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে থেকেছি, কথা বলার সুযোগ ছিল—কিন্তু নিজেকে অর্ধেক অজ্ঞ মনে হয়েছে। তখন ভাবতাম, ‘আমি কী বোকা! সময় নষ্ট করেছি।’ ছোটবেলায় এসব বোঝা যায় না। এখন আমি আমার সন্তানদের বলি—ভালো শিক্ষা নেওয়া, পড়াশোনা করা ও প্রস্তুত থাকা কত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যেন সুযোগটা কাজে লাগায়।’আরও পড়ুন: বার্সেলোনার নির্বাচন ঘিরে মেসির ছবি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক১৩ বছর বয়সে রোসারিও থেকে বার্সেলোনায় আসেন মেসি এবং সেখানেই পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনায় আমার শেষ স্কুল বছরটা বিশৃঙ্খল ছিল। জানতাম আমি বার্সেলোনায় চলে যাচ্ছি। পরে বার্সেলোনায় লা মাসিয়া একাডেমির অন্য ছেলেদের সঙ্গে হাই স্কুল শেষ করি।’মেসি জানান, ফুটবল তাকে শুধু সাফল্যই দেয়নি, দিয়েছে জীবনের অসংখ্য শিক্ষা। তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন এবং ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে শিরোপা জিতিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘ফুটবলে আমি সবকিছু অর্জন করেছি, শীর্ষে পৌঁছেছি। কিন্তু এই পথচলায় অসংখ্য অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা আছে। ফুটবল এক ধরনের জীবনধারা। এটা অনেক মূল্যবোধ শেখায়, আজীবনের সম্পর্ক তৈরি করে, নতুন জায়গা চেনায়।’আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের ক্লাবে যোগ দিলেন কিউবা মিচেলনতুন মৌসুমে ইন্টার মিয়ামির শুরুটা ভালো হয়নি। এমএলএস মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে হেরে গেছে মেসির দল। ম্যাচ শেষে উত্তেজনার মধ্যে সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ টানেলে মেসিকে শান্ত করতে এগিয়ে আসেন। পরে এমএলএস পর্যালোচনায় জানায়, মেসি রেফারির ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করেননি এবং লিগ নীতিমালা ভঙ্গ করেননি—তাই তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।ইন্টার মিয়ামির পরবর্তী ম্যাচ ১ মার্চ, অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে।