স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বার্সেলোনার আসন্ন সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে অপ্রত্যাশিতভাবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন লিওনেল মেসি। তবে নিজে থেকে নয়, প্রাক-প্রার্থীদের প্রচারে তার নাম-ইমেজ ব্যবহারের কারণেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।ক্লাব নির্বাচনের শুরু থেকেই মেসি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি কোনো প্রার্থীর প্রচারে যুক্ত হতে চান না। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগও করবেন না। তার পরও বিভিন্ন প্রাক-প্রার্থী তাদের প্রচারে মেসিকে কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত করেছেন, বিশেষ করে ‘মেসির প্রত্যাবর্তন’ প্রশ্নটি তুলে ধরে। প্রথম বিতর্কটি তৈরি হয় প্রাক-প্রার্থী মার্ক চিরিয়ার একটি ব্যানারকে ঘিরে। বার্সেলোনার একটি ভবনে ঝোলানো সেই ব্যানারে লেখা ছিল—‘লুকিং ফরওয়ার্ড টু সিইং ইউ এগেইন’। সেখানে সরাসরি মেসির নাম বা স্পষ্ট ছবি না থাকলেও বার্তাটি যে তাকেই উদ্দেশ্য করে, তা বুঝতে কারও বাকি ছিল না। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ব্যানারটি মেসির অজান্তেই টানানো হয়েছিল। বিষয়টি তাকে বিস্মিতও করেছে। এমনকি প্রচারের অন্যতম অঙ্গ হিসেবে তাকে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে যোগাযোগের চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে মেসি শুরু থেকেই এই খেলায় অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। আরও পড়ুন: ধর্ষণের অভিযোগে বিচার শুরু, সত্য প্রকাশ্যে আসার অপেক্ষায় হাকিমি একই ধরনের চেষ্টা করেন আরেক প্রাক-প্রার্থী ভিক্টর ফন্ট। তার পক্ষ থেকে গ্যাব্রিয়েল মাসফুরলের মাধ্যমে মেসির ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু একাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফন্ট অবশ্য দাবি করেছেন, তার যোগাযোগ হয়েছিল অনেক আগেই, কখনোই সরাসরি মেসির সঙ্গে নয়। বর্তমান সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও সাম্প্রতিক সময়ে মেসিকে ঘিরে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মেসির ক্লাব ছাড়ার প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য ‘ট্রিবিউট’ আয়োজন নিয়ে কথা বলেছেন। লাপোর্তা জানিয়েছেন, সম্মাননা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নাকি মেসির হাতেই। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কেবল লাপোর্তার বক্তব্যই প্রকাশ্যে এসেছে। মেসির নিজস্ব অবস্থান বা ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। যদিও ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, সময় হলে তার পক্ষ থেকেও বক্তব্য আসতে পারে। আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের ক্লাবে যোগ দিলেন কিউবা মিচেল ফুটবলবিশ্বে মেসির প্রভাব ও আবেগগত সংযোগ অস্বীকার করার উপায় নেই। দীর্ঘ সময় বার্সেলোনার জার্সিতে সাফল্যের পর তিনি ক্লাবের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু তার সম্মতি ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে ইমেজ বা ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ব্যবহার করা কতটা নৈতিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সমর্থক মহলেও। সব মিলিয়ে, বার্সেলোনার নির্বাচন যত এগোচ্ছে, মেসিকে ঘিরে রাজনৈতিক-প্রচারণামূলক টানাপোড়েনও ততই বাড়ছে। অথচ যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত, তিনি নিজে এখনো নীরব এবং নিরপেক্ষ থাকার অবস্থানেই অনড়।