প্রথম সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অভিশংসনের পদক্ষেপ নেয়া প্রথম কাজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সেনা শহীদদের প্রতি দোয়া এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এই মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘প্রথম সংসদ অধিবেশনে প্রথম কাজটি হবে, ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের জন্য পদক্ষেপ নেয়া। নতুন সংসদের সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই মিলে এই কাজটি করবে। কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় ঐক্য রয়েছে। সুতরাং জাতীয় ঐক্যের জায়গা থেকে এখানে কোনো বিভেদ থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে আসতে পারেনি দেখে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হয় নাই। সেই সময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক শূন্যতা অনেক কিছুর কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে রেখে দেয়া হয়েছে। এখন নতুন সরকার এসেছে। নতুন সংসদ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এখন চলে যাওয়াটা কেবল সময়ের ব্যাপার। আমরা সবাই সেই সময়ের অপেক্ষায় রয়েছি।’ জুলাই-আগস্টে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চলাকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেননি অভিযোগ তুলে এনসিরি আহ্বাকয় বলেন, ‘তিনি নীরব নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে কিন্তু কোটা সংস্কার দাবি নিয়ে আমরা রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত গিয়েছিলাম। তার নীরব নিষ্ক্রিয়তার কারণে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। ফলে এই গণহত্যায় তিনিও অভিযুক্ত এবং তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনৈতিকতার অভিযোগও রয়েছে।’ বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতি যেই সম্মান, শ্রদ্ধা, ভাবগম্ভীর্য সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন তার কোনোটি আসলে তার নেই। বরং নানা অপরাধে তিনি অভিযুক্ত। ফলে এখন সময় এসেছে অভিশংসন করে তাকে সরানো। সেইসঙ্গে মামলা করে তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা নতুন সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।’ আরও পড়ুন: বঙ্গভবনে বিক্ষোভ চলাকালে রাষ্ট্রপতিকে ফোনে যা বলেছিলেন নাহিদ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধেও বিরুদ্ধাচরণ করেছেন দাবি করে নাহিদ বলেন, ‘তিনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও নেতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। ফ্যাসিস্ট সময়ের রাষ্ট্রপতিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। তিনি যেই ধরনের সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেটাও লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে কোনোভাবেই মো. সাহাবুদ্দিন আর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকার যোগ্য না।’ আওয়ামী লীগের অফিস খোলা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা অভিযোগ সত্য। এই সত্যতা সরকারও স্বীকার করেছে। সরকার বলেছে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবে। কারণ আইনগতভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তবে নতুন সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো গোপন চুক্তি হয়েছে কি না এটা আমরা জানি না।’ এনসিপির প্রধান বলেন, ‘আমরা আইনের শাসন চাই। খুবই স্পষ্ট কথা। যদি আইনের শাসন ব্যত্যয় সরকারের পক্ষ থেকে ঘটে, তাহলে জনগণের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতিরোধের ডাক দিতে হবে। আমরা অপেক্ষা করছি সরকার কি আইনের শাসনের পক্ষে যাবে, নাকি আরও একটি গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়।’