ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ, এবার পালা সংরক্ষিত নারী আসনের। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোজার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করতে চাইছে নির্বাচন কমিশনও (ইসি)।এদিকে নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় আলোচনায় এসেছেন সাবেক কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শামসুন্নাহার ভুঁইয়া। আরপিও অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসন যতটি পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। কোনও দল একাধিক আসন পেলে তবেই নারী আসন পায়। জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বরাদ্দ হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। সে হিসেবে দলটি ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, শামসুন্নাহার ভুঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৮৩-৮৪ সালে জগন্নাথ কলেজ ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে থেকেই তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে থানা পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর লালবাগ থানা মহিলা দলের আহ্বায়ক এবং ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আরও পড়ুন: ঈদের আগেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন? জনপ্রতিনিধি হিসেবে পুরান ঢাকার ২৭, ২৮ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি ২০০১, ২০১৫ ও ২০১৯ সালে টানা তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পারিবারিকভাবেও তিনি রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তার স্বামী সিরাজুল ইসলাম জগন্নাথ কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শামসুন্নাহার ভুঁইয়া জানান, সংসদে সুযোগ পেলে এলাকার অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে থাকবেন। সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত, উন্নত ও শান্তিপূর্ণ জনপদ গড়তেও কাজ করবেন তিনি। দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের মূল্যায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিন।