প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্যমী যুবক আব্দুল মালেক (৩৪)। নিজের স্বপ্ন পূরণে আর মাত্র কদিন পর পাড়ি জমানোর কথা ছিল সৌদি আরব। সে লক্ষ্যে প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবনযাত্রা। এই যুবকের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ সেন্টমার্টিনের মানুষ।বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঝিলংজা ইউনিয়নের দরগাহপাড়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনি। নিহতের বড় ভাই আবদুর রহিম জিহাদী জানান, সৌদি আরব যাওয়ার জন্য মালেক রামুর জোয়ারিয়ানালায় বিকেএসপির পাশে একটি সরকারি ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণে ভর্তি হয়েছিলেন। বুধবার ছিল তার প্রশিক্ষণের শেষ দিন। প্রশিক্ষণ শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে কক্সবাজার শহরে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পথিমধ্যে দরগাহপাড়া এলাকায় বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন আব্দুল মালেকসহ আরও দুই যাত্রী। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মালেককে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুই যাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আরও পড়ুন: এ মৌসুমের জন্য শেষ হলো পর্যটকদের সেন্টমার্টিন যাত্রা এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। স্বজনেরা জানিয়েছেন, আব্দুল মালেক প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়ার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। তিনি সেখানে ‘সি প্রবাল’ নামের একটি কটেজের মালিক ছিলেন। পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় পত্রিকায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে লেখালেখি করতেন। সেন্টমার্টিনের সমস্যা ও সম্ভাবনার নানা গল্প তুলে ধরতেন তিনি। আবদুল মালেক প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। দ্বীপের নানা সম্ভাবনা ও সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন, যা অনেক সময় ভাইরাল হতো। নিজের ফেসবুক বায়োতে তিনি লিখেছিলেন, ‘মৃত্যুর পর আমার লাশটি জন্মভূমি সেন্টমার্টিনে বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত করিও।’ অবশেষে তার সেই ইচ্ছাই পূরণ হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নাফ নদী পাড়ি দিয়ে ট্রলারযোগে তার মরদেহ সেন্টমার্টিনে নেয়া হবে। সেখানে দুপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে হাতেগোনা কয়েকজন উচ্চশিক্ষা অর্জনকারী তরুণের মধ্যে আব্দুল মালেক ছিলেন একজন। তিনি চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। আইনজীবী হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে ব্যবসাকেই বেছে নিয়েছিলেন। আরও পড়ুন: সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ণ করছে অব্যবস্থাপনা: সালাহউদ্দিন সুমন মালেকের মৃত্যুতে দ্বীপজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জিয়াউল হক জিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘মালেক ছিল উদ্যমী। দ্বীপের তরুণদের অনুপ্রেরণা। তাঁর এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেয়ার মতো নয়।’ এদিকে বুধবার রাতে টেকনাফের নতুন পল্লানপাড়া সুফিয়া নুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জন্মভূমি সেন্টমার্টিন দ্বীপে দ্বিতীয় জানাজা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।