আজ থেকে শুরু বইমেলা, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আজ থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বইমেলার উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ তুলে দেবেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এর উদ্বোধন বিষয়ে মেলার সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সেলিম রেজা। বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক সরকার আমিন। সেলিম রেজা বলেন, এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৪৯টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। মোট ইউনিট ১ হাজার ১৮টি। গত বছর মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি। মেলা কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় কমেছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। আরও পড়ুনবইমেলার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনড় অবস্থান, সম্মত নন প্রকাশকরাবইমেলায় শিশুদের জন্য থাকছে ৩ প্রতিযোগিতা এবার মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলাপ্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। আর ছুটির দিন বইমেলা বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে শিশুপ্রহর আয়োজন করা হবে। এছাড়া শিশুকিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এদিকে মেলা শুরুর আগের দিন বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেখা যায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির ব্যস্ততা। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা স্টল সাজানো, বই গোছানো ও ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর কাজে সময় পার করছেন। উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, মেলার মূল ভেন্যু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে তৈরি করা হয়েছে সারিবদ্ধ স্টল। কোথাও কাঠের কাঠামোয় রঙের শেষ প্রলেপ, কোথাও বইয়ের তাক বসানো, আবার কোথাও নতুন প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের প্রস্তুতি চলছে। স্টলগুলোর সামনে টানানো হয়েছে প্রকাশনীর নামফলক ও আলোকসজ্জা। কর্মীরা বইয়ের প্যাকেট খুলে শেলফে সাজিয়ে রাখছেন নতুন ও পুরোনো বই। শিশু-কিশোর কর্নার, গবেষণাধর্মী বই, কথাসাহিত্য ও কবিতার বই আলাদা করে প্রদর্শনের প্রস্তুতিও চলছে। মেলা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠ পরিদর্শন করছেন। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে আগেই। রমনা কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুম, র্যাবের স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্সের অস্থায়ী ক্যাম্প এবং আনসার প্লাটুনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি ব্রেস্টফিডিং (মাতৃদুগ্ধ পান) কর্নার স্থাপন করেছে। এফএআর/ইএ/এমএস