ডিজিটাল পর্দার সামনে কাটে আমাদের দিনের বড় একটি অংশ। কাজ, বিনোদন, পড়াশোনা সবকিছুর কেন্দ্রেই এখন টিভি-ল্যাপটপের স্ক্রিন। তাই স্ক্রিনে সামান্য দাগ বা ধুলা জমলেই আমরা হাতের কাছে যা পাই টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলি। নরম মনে হওয়ায় টিস্যুকে নিরাপদ ভাবি। কিন্তু এই সহজ অভ্যাসটিই অজান্তে আপনার প্রিয় ডিভাইসের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। স্ক্রিন পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতাই দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে রং, উজ্জ্বলতা এবং ডিসপ্লের মানে। তাই জানাটা জরুরি টিস্যু ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ, আর সঠিক পদ্ধতিই বা কী। টিস্যু পেপার দেখতে নরম হলেও এটি তৈরি হয় কাঠের পাল্প থেকে, যার ফাইবার অনেক সময় রুক্ষ হতে পারে। আধুনিক এলইডি, এলসিডি বা ওএলইডি স্ক্রিনে থাকে অ্যান্টি-গ্লেয়ার বা অ্যান্টি-রিফ্লেকটিভ কোটিং। শুকনো টিস্যু দিয়ে নিয়মিত মুছলে এই সূক্ষ্ম কোটিংয়ে ক্ষুদ্র আঁচড় তৈরি হতে পারে, যা প্রথমে চোখে না পড়লেও সময়ের সঙ্গে স্ক্রিনের স্বচ্ছতা কমিয়ে দেয়। ল্যাপটপ ও টিভির স্ক্রিনে থাকা প্রোটেকটিভ লেয়ার অত্যন্ত সংবেদনশীল। টিস্যু দিয়ে চাপ দিয়ে ঘষলে এই স্তর ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে পারে। ফলে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া, রঙ ফ্যাকাসে দেখানো কিংবা আলো প্রতিফলন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুকনো টিস্যু দিয়ে স্ক্রিন ঘষলে স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি তৈরি হতে পারে। এতে সাময়িকভাবে স্ক্রিন পরিষ্কার দেখালেও পরে আরও বেশি ধুলো আকৃষ্ট হয়। অর্থাৎ বারবার পরিষ্কার করার প্রয়োজন পড়ে যা আবার নতুন করে ঘর্ষণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাহলে কী দিয়ে পরিষ্কার করবেন? ১. মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুনস্ক্রিন পরিষ্কারের সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো নরম মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করা। এই কাপড় ধুলো টেনে নেয় কিন্তু স্ক্রিনে আঁচড় ফেলে না। হালকা হাতে বৃত্তাকারে মুছলেই যথেষ্ট। ২. স্ক্রিন ক্লিনার সলিউশনবিশেষভাবে তৈরি স্ক্রিন ক্লিনিং সলিউশন ব্যবহার করা ভালো। তবে কখনোই সরাসরি স্ক্রিনে স্প্রে করা উচিত নয়। আগে কাপড়ে স্প্রে করে নিয়ে তারপর ধীরে ধীরে মুছতে হবে। এতে অতিরিক্ত তরল স্ক্রিনের ভেতরে ঢুকে ক্ষতি করার ঝুঁকি থাকে না। ৩. ডিস্টিল্ড ওয়াটারহালকা দাগ বা আঙুলের ছাপ থাকলে সামান্য ডিস্টিল্ড পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। ট্যাপের পানিতে থাকা খনিজ পদার্থ দাগ ফেলতে পারে, তাই সাধারণ পানি এড়িয়ে চলাই ভালো। যেসব ভুল একদমই করবেন না ১. অনেকেই কাঁচ পরিষ্কার করার স্প্রে ব্যবহার করেন, যা স্ক্রিনের কোটিং নষ্ট করতে পারে। অ্যামোনিয়া বা শক্তিশালী কেমিক্যালযুক্ত ক্লিনার স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।২. অতিরিক্ত ভেজা কাপড় ব্যবহার করলে তরল স্ক্রিনের প্রান্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে যেতে পারে, যা ডিসপ্লে নষ্ট করতে পারে।৩. স্ক্রিন বন্ধ ও ঠান্ডা না করে পরিষ্কার করলে দাগ ভালোভাবে বোঝা যায় না এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।৪. স্ক্রিন খুবই সংবেদনশীল। বেশি চাপ প্রয়োগ করলে প্যানেলে স্থায়ী দাগ বা পিক্সেল সমস্যা তৈরি হতে পারে। টিভির স্ক্রিন বড় হওয়ায় একদিকে বেশি চাপ পড়লে অন্য অংশে অসমান প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পুরো প্যানেল জুড়ে সমানভাবে, হালকা হাতে মুছতে হবে। ল্যাপটপের স্ক্রিন তুলনামূলকভাবে পাতলা ও নড়বড়ে। পরিষ্কার করার সময় স্ক্রিনের পেছন দিক হালকা সমর্থন দিয়ে ধীরে মুছতে হবে, যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। কতদিন পরপর পরিষ্কার করবেন?প্রতিদিন স্ক্রিন পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। যখন দৃশ্যমান ধুলো, দাগ বা আঙুলের ছাপ দেখা যায়, তখনই পরিষ্কার করাই যথেষ্ট। অযথা ঘন ঘন মুছলে বরং কোটিং ক্ষয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। আরও পড়ুনশরীরের ভঙ্গিমা দেখে ফ্যানের গতি বাড়াবে কমাবে এআইএখন নোটপ্যাডেও পাবেন ইমেজ সাপোর্ট কেএসকে