‘ব্যাংক খাত ডুবিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে বিদায় আহসান মনসুরের’

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো বড় চ্যালেঞ্জে শিক্ষা খাত - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে পাসের হার ও জিপিএ ৫ বাড়লেও শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগ ক্ষমতায় বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অঙ্গনে বাংলাদেশের ডিগ্রির মান অবনমনেরও খবর আসছে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দেখা যায়, ডবল জিপিএ ৫ পেয়েও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। এতে শিক্ষার মানের অবনমনের বিষয়টি স্পষ্ট। সব মিলিয়ে দেশের শিক্ষা খাত এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।ব্যাংক খাত ডুবিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে বিদায় আহসান মনসুরের - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতায় প্রকাশিত আরেকটি সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতির আকাশে শুদ্ধির বজ্রধ্বনি তুলেছিলেন তিনি। পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাত আর শিল্পগোষ্ঠীর অনিয়ম, অর্থপাচার ও ঋণ জালিয়াতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলো ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মোট ১১টি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার, হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, বিদেশে অর্থপাচার।   কিন্তু দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই দৃশ্যমান কোনো অর্থপাচার বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। তদন্তের ঢাকঢোল যত জোরে পেটানো হয়েছিল, ফল ততটাই অনিশ্চিত থেকে গেছে। বরং এই সময়টায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষয়ে গেছে ধীরে ধীরে। বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও অনিশ্চয়তার আবহে  আবহে নতুন বিনিয়োগে ভাটা পড়ে, পুঁজিবাজারে দেখা দেয় স্থবিরতা।ব্যবসায়ী গভর্নর এই প্রথম - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগ বাতিল করে মো. মোস্তাকুর রহমানকে একই পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মোস্তাকুর রহমান ব্যয় ব্যবস্থাপনা বা কস্ট ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এফসিএমএ ডিগ্রিধারী। তিনি একজন ব্যবসায়ী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এই প্রথম একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ দেয়া হলো।   মোস্তাকুর রহমান হবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ অনুযায়ী মোস্তাকুর রহমানকে অন্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।৫ হাজার ৭৭৫ গ্রাহকের কাছে ৩ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, গত দেড় দশকে ব্যাংকগুলো থেকে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বের করে নেয়া ঋণের বেশির ভাগই বর্তমানে খেলাপি হয়ে পড়েছে। এ খেলাপি ঋণের বড় অংশই দেশের বাইরে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বড় ঋণখেলাপিদের অনেকে পাচার করা অর্থে ইউরোপ, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, দুবাই, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্থায়ী আবাস গড়েছেন।  বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাত্র ৫ হাজার ৭৭৫ গ্রাহকের কাছেই রয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ। এ ঋণখেলাপিদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও ভাঙার মতো উৎপাদনমুখী শিল্প খাত। আবার খেলাপির তালিকায় ওপরের দিকে আছেন বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। ব্যাংক খাত তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে খেলাপি ঋণ আদায় সদ্য নিয়োগ পাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সবুজ সংকেতের অপেক্ষা - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। স্থগিত করা হয় দলটির নিবন্ধনও। এ কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। ভোটের আগে ‘নো বোট নো ভোট’ ক্যাম্পেইন চালালেও নির্বাচন প্রতিহতে তেমন কোনো কর্মসূচি দিতে দেখা যায়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে। বরং নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসায় এখন তারা ‘হাঁপ ছেড়ে বাঁচা’র মতো অবস্থায় আছে।  নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলটির নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে অবস্থানও নিয়েছেন। কিছু স্থানে কার্যালয় খোলার পর পালটা দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কেন্দ্রীয় অবস্থানকে ‘ইতিবাচক’ হিসাবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। ফলে দলটি এখন সরকারের ‘সবুজ সংকেত’র অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার ‘ছাড়’ দিলে তারা ইতিবাচক রাজনীতির পথেই ফিরতে চান।তিনি এখনো আছেন - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের স্মারক ও আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরার লক্ষ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। গত বছরের ৫ই আগস্ট ওই জাদুঘর উদ্বোধনের ঘোষণা দেয়া হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর তা উদ্বোধন করতে পারেনি। এখনো চলছে নির্মাণকাজ। গত ১৭ই আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে এখন তৎপর বিদায়ী সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।  উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়লেও তিনি নিয়মিত জাদুঘরে যাতায়াত করছেন। তদারকি করছেন। সাবেক উপদেষ্টা ও তার লোকজন নিয়মিত যাতায়াত করলেও জাদুঘরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। এমনকি সাংবাদিক পরিচয়েও ভেতরে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি। জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় ১১১ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। দায়িত্ব ছাড়ার দুইদিন আগে নির্মাণকাজ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন বিদায়ী উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। কমিটির দায়িত্ব বলেই তিনি এখন নির্মাণকাজ পরিদর্শনের নামে নিয়মিত যাতায়াত ও অবস্থান করেন। তবে অতি গোপনীয়তায় এখানে কি কাজ হচ্ছে, কারা কাজ করছে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া দায়িত্ব ছাড়ার পর নিজ আগ্রহে কমিটি গঠন করে সেখানে দায়িত্ব নেয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আলোচনা আছে জাদুঘর পরিচালনায় ৯৬ জন লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিদায়ী উপদেষ্টা নিয়ন্ত্রণ করছেন।