আজকের ডিজিটাল জীবন আমাদের হাতে রাখছে অসংখ্য সুবিধা, আর তার মধ্যে অন্যতম হলো ফ্রি ওয়াই-ফাই। বাড়ি থেকে দূরে থাকলে, ক্যাফে, বিমানবন্দর, স্টেশন প্রায় সর্বত্রই ইন্টারনেট সহজলভ্য। বিনামূল্যে এই সংযোগ আমাদের যোগাযোগ ও কাজকে দ্রুততর করে। কিন্তু মনে রাখুন, ফ্রি ওয়াই-ফাই যতই আরামদায়ক হোক না কেন, তা সাইবার অপরাধীদের জন্য ফাঁদও হতে পারে। ১. নেটওয়ার্কের নামের ফাঁদসাইবার অপরাধীরা প্রায়ই ফ্রি নেটওয়ার্কের নাম এমনভাবে তৈরি করে, যাতে তা অফিসিয়াল বা পরিচিত মনে হয়। যেমন ধরুন- এয়ারপোর্ট, ওয়াই-ফাই ফ্রি, ক্যাফে ওয়াই-ফাই অফিসিয়াল নামে নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে। এই ধরনের নেটওয়ার্কে সংযোগ দিলে আচমকাই আপনি ফিশিং লিঙ্ক বা ক্ষতিকর সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারেন, যা ব্যক্তিগত তথ্য চুরির পথ প্রশস্ত করে। ২. লগ ইন পেজ ও পারমিশনের সতর্কতাকোনও নেটওয়ার্কে ঢোকার সময় যদি আপনাকে অপরিচিত লগ ইন পেজে নাম্বার, পাসওয়ার্ড বা অন্যান্য তথ্য দিতে বলা হয়, তা সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত। এছাড়া নেটওয়ার্ক যদি অপ্রয়োজনীয় পারমিশন চাই বা অতিরিক্ত ধীরগতির হয়, তাতেও সতর্ক থাকা উচিত। এই সতর্কতা মানলে আচমকা ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। ৩. অটোমেটিক সংযোগ বন্ধ রাখুনআপনার ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের সেটিংসে অটোমেটিক ওয়াই-ফাই সংযোগ বন্ধ করুন। এতে ডিভাইস আচমকাই কোনো অপরিচিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে না। এটি একটি সহজ, কিন্তু খুব কার্যকর পদক্ষেপ যা ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা অনেক কমিয়ে দেয়। ৪. প্রাইভেসি ফায়ারওয়াল ব্যবহার করুনঅনেক অ্যাপ পাবলিক নেটওয়ার্কে স্বতঃসিদ্ধভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রাইভেসি ফায়ারওয়াল অ্যাপ ব্যবহার করলে কেবল আপনার অনুমোদিত অ্যাপ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। অন্য অ্যাপকে অননুমোদিত আদান-প্রদানে বাধা দেবে, ফলে আপনার ডেটা চুরি বা ফিশিং আক্রমণ থেকে নিরাপত্তা বাড়ে। ৫. আলাদা ভ্রমণ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুনফ্রি নেটওয়ার্কে সংযোগ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট আলাদা ভ্রমণ অ্যাকাউন্ট খোলা ভালো। এতে- মূল অ্যাকাউন্টের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে। অ্যাকাউন্ট আক্রান্ত হলেও বড় ক্ষতি হয় না। কম তথ্য দিয়ে ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়। ৬. নিরাপত্তা শংসাপত্র যাচাই করুনকোনো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে লগ ইন করার আগে প্যাডলক আইকন দেখে নিন। নিরাপত্তা প্রশংসাপত্রে কোনো সন্দেহজনক কিছু থাকলে সংযোগ এড়িয়ে চলুন। এতে নিশ্চিত হয় যে, আপনি বৈধ এবং নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন। ৭. সচেতনতা ও ঝুঁকি হ্রাসফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহারে ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে সতর্কতা অবলম্বন করলে বিপদের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। সচেতন থাকুন, অটোমেটিক সংযোগ বন্ধ রাখুন, প্রাইভেসি ফায়ারওয়াল ব্যবহার করুন, আলাদা ভ্রমণ অ্যাকাউন্ট খুলে রাখুন এবং প্রশংসাপত্র যাচাই করুন। আরও পড়ুনসোশ্যাল মিডিয়া নজর রাখছে আপনার ব্যক্তিগত জীবনেওপানি ছাড়াও যেসব কারণে স্মার্টফোন নষ্ট হতে পারে কেএসকে