সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপিতে প্রাধান্য পাবেন কারা?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে এবার সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। সরকার ও বিরোধী দলের অনেক নারী নেত্রীই সংসদে জায়গা নিশ্চিতে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে। বরাবরের মতোই বিএনপি বলছে, দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ভূমিকা রাখা নেত্রীদের মূল্যায়ন করা হবে। দলটির নারী নেতৃত্ব বলছে, দুঃসময়ের কর্মীদেরই সম্মান জানানো উচিত।নির্বাচন শেষে সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভার শপথ শেষে আগামী ১২ মার্চ বসছে প্রথম অধিবেশন। ইতিমধ্যেই অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। প্রকাশিত হয়েছে গেজেটও।নতুন সংসদে বেশকিছু জরুরি পদক্ষেপের মধ্যে সংরক্ষিত ৫০টি আসনে নারী সংসদ সদস্য মনোনীত করা অন্যতম। বিএনপি বলছে, অধিবেশন বসার পরই এ বিষয়ে কাজ শুরু হবে।সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, তারাই প্রাধান্য পাবেন।আর নারী নেত্রীরা  বলছেন, দীর্ঘ সময় মাঠের রাজনীতিতে যারা যুক্ত, তাদের প্রত্যাশা বেশি থাকাই স্বাভাবিক।বিএনপি নেত্রী বিলকিস জাহান শিরীন বলেন, আমরা যারা ৪২-৪৩ বছর দল করি দলের জন্য অনেক অবদান রেখেছি। আবার আমাদের পরবর্তী জেনারেশনও মাঠে ছিল। দলের জন্য ফাইট করেছে। কেবিনেট যেভাবে গঠন হয়েছে এবং ৩০০ আসনে যেভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এখানেও সেভাবেই নবীন-প্রবীণের সমন্বয় করে মনোনয়ন দেয়া উচিত।আরও পড়ুন: বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভোট পায়নি, কায়দা করে নেয়া হয়েছে: জামায়াত আমিরদুঃসময়ে মাঠে থাকলেও, সুসময়ে যারা অন্তরালে চলে গেছেন, তাদের খুঁজে বের করে প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি।তিনি বলেন, কত কষ্টের পর বিএনপি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসছে। এখন দুধের মাছির অভাব নেই। ওই দুঃসময়ে একটি মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর ছিল। সেই সময় যারা দলের পাশে ছিল তারা অভিমান করে ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। আমরা মনে করি দল সঠিক কাজ করবে এবং সেই মানুষটিকে খুঁজে বের করবে।প্রায় চার দশক জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেত্রী বলছেন, দেশের নারী ক্ষমতায়নে সংসদের সংরক্ষিত আসনে গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থান। এমন জায়গায় তাই সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রেখে নীতি তৈরির বিষয়ে যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরার মতো মেধাসম্পন্ন নারীদের প্রয়োজন।বিএনপি নেত্রী হেলেন জেরিন খান বলেন, পার্লামেন্ট একটি ডিবেটের জায়গা, ল মেকারের জায়গা। এখানে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে হবে। এখানে ডিবেট হবে, বিরোধী দল থাকবে, তাদের কথার রেসপন্স করতে হবে। এখানে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও সুশিক্ষিত লোক হলে ভালো হয়। এ ধরনের পরীক্ষিত নারী নেতৃত্ব উঠে আসবে আশা করি।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আসন বিবেচনায় শুধু বিএনপির ভাগে যাবে ৩৫টি সংরক্ষিত আসন। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি এবং এনসিপি পাবে ১টি আসন। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনী ফলাফল সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।