বাসাবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম বড় কারণ গ্যাস লিক। রান্নাঘরে হালকা গন্ধকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না - কিন্তু সেটিই হতে পারে বড় দুর্ঘটনার পূর্বাভাস। সম্প্রতি গ্যাস লিকে বিস্ফোরণের সংবাদে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়েছেন। কিন্তু নিজের আশেপাশের পরিবেশ নিয়ে সচেতন হয়েছেন কি? ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অগ্নি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী, সচেতনতা ও তাৎক্ষণিক সঠিক পদক্ষেপই গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। জেনে নিন বাসা বাড়িতে গ্যাস লিকের লক্ষণ ও প্রতিকার - গ্যাস লিকের সাধারণ লক্ষণ ১. রান্নাঘরে তীব্র গ্যাসের গন্ধ পাওয়া ২. চুলা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও শোঁ শোঁ শব্দ ৩. সিলিন্ডার বা লাইনের সংযোগস্থলে সাবান পানি পরীক্ষা করলে বুদবুদ আসা ৪. হঠাৎ করে অস্বাভাবিক মাথা ঘোরা বা বমিভাব নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। দ্রুত পদক্ষেপ নিন। গ্যাস লিক হলে কী করবেন? ১. কোনোভাবেই আগুন বা বৈদ্যুতিক সুইচ স্পর্শ করবেন না। গ্যাস জমে থাকলে সামান্য স্পার্ক থেকেও বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তাই লাইট জ্বালানো, ফ্যান চালু করা বা মোবাইল চার্জার লাগানো থেকে বিরত থাকুন। ২. দ্রুত গ্যাসের মূল ভালভ বন্ধ করুন। সিলিন্ডার বা লাইনের মেইন ভালভ বন্ধ করে দিন। সম্ভব হলে রেগুলেটর খুলে ফেলুন। ৩. দরজা-জানালা খুলে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন। এটি ঘরে জমে থাকা গ্যাস দ্রুত বের হতে সাহায্য করবে। প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। ৪. দেশলাই বা লাইটার দিয়ে লিক পরীক্ষা করবেন না। অনেকে আগুন জ্বালিয়ে লিক শনাক্ত করতে চান - এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গ্যাস লিকের পরিমাণ বেশি হয়ে বিস্ফোরণ হতে পারে। বরং সাবান পানির ফেনা ব্যবহার করে সংযোগস্থলে বুদবুদ দেখা যায় কি না পরীক্ষা করুন। ৫. প্রয়োজন হলে জরুরি সহায়তা নিন। নিজে নিজে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে বেশিক্ষণ চেষ্টা করে সময় নষ্ট করবেন না। দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা স্থানীয় ফায়ার স্টেশনে যোগাযোগ করুন। গ্যাস লিক প্রতিরোধে কী করবেন? প্রতিরোধের জন্য ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনায় নিয়মিত কিছু অভ্যাস গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে - >> অনুমোদিত মানসম্পন্ন সিলিন্ডার ও রেগুলেটর ব্যবহার করুন >> সিলিন্ডার সবসময় সোজা ও খোলা জায়গায় রাখুন >> চুলা ব্যবহারের পর ভালভ বন্ধ করুন >> নির্দিষ্ট সময় পরপর পাইপ ও সংযোগ পরীক্ষা করুন >> মেয়াদোত্তীর্ণ পাইপ বা রাবার হোস পরিবর্তন করুন এছাড়া সিলিন্ডার কখনোই বদ্ধ আলমারি বা নিচু গর্তের মতো জায়গায় রাখা যাবে না, কারণ গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী, নিচের দিকে জমে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ায়। কেন সচেতনতা জরুরি? ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর জানায়, অধিকাংশ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে অসাবধানতা ও নিয়ম না মানার কারণে। সামান্য অবহেলা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে গ্যাস নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া জরুরি। রান্নাঘর ঘরের সবচেয়ে ব্যবহৃত স্থানগুলোর একটি। সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে পুরো পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। গ্যাসের গন্ধ পেলেই সতর্ক হোন, নিয়মিত সংযোগ পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন। সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন। সূত্র: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অগ্নি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা এএমপি/এএসএম