টাকার বিনিময়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের আবার পরীক্ষা নিলো কলেজ

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বন্ধের মধ্যেই টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে আবারো পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, পবিত্র রমজান উপলক্ষে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু সে নির্দেশনা উপেক্ষা করে টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলজে রোজার মধ্যেই এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষা। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই ৪ বিষয় কিংবা ৫ বিষয়েও অকৃতকার্য রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের বেশ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে বুধবার দুপুর পর্যন্ত পরীক্ষা চলছিল। সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে কিছুটা হতভম্ব হয়ে যান শিক্ষকরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজে গত ২০ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এইচএসসির টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়। এতে দ্বাদশ শ্রেণির মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১১০১ জন। পরবর্তীতে ১৯ ফেব্রুয়ারি এর ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে করে ৪৯১ জন শিক্ষার্থী ফেল করে। এদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ইংরেজি, আইসিটি, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। কলেজের একটি সূত্র জানায়, অকৃতকার্য এসব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জাগো নিউজকে জানায়, আমাদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। টাকাগুলো কলেজের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের এক শিক্ষকের কাছে দিয়েছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জাগো নিউজকে জানায়, আমি ২ বিষয়ের জন্য টাকা জমা দিয়েছি। আমার মতো অনেকেই টাকা জমা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ তাহমিনা জাহান জাগো নিউজকে বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অনুরোধে কাউন্সিলের মিটিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রমজানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া তিনি টাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেন। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লায়লা আঞ্জুমান বানু জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে রমজান মাস উপলক্ষে মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি আমাদের নলেজে নেই। বিষয়টি আমরা দেখবো। আব্দুল্লাহ আল নোমান/এফএ/এএসএম