আফগানিস্তান-লিবিয়ায় যুদ্ধ করা পাইলট এখন মাতাচ্ছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

নরওয়ের ছোট্ট একটি ক্লাব পরিণত হয়েছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের 'হট টপিকে'। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয়ার পর সে আলোচনা বেড়েছে বহুগুণে। মাত্র ৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার হোম ভেন্যু নিয়ে এমনই রূপকথার জন্ম দিয়েছে বোডো/গ্লিমট। আর ক্লাবের এমন সাফল্যের পেছনে যার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত, তিনি ফুটবলের কেউ নন, বরং পেশায় ছিলেন একজন ফাইটার পাইলট। বোডো/গ্লিমটের মেন্টাল ট্রেনার হিসেবে কাজ করা সে ব্যক্তির নাম বির্ন মানসভার্ক।ভোগৌলিকভাবে অদ্ভূত এক শহর বোডো। মাত্র ৫৫ হাজারের জনসংখ্যা, যাদের প্রায় সবাই মাছ শিকারে জড়িত। গ্রীষ্মে এখানে সূর্য ডোবে না, শীতে চিত্রটা উল্টো। আছে তুষার ঝড়। এমন প্রতিকূল পরিবেশেও বোডোর মানুষের জীবনে এখন আনন্দের সীমা নেই। ক্লাবের ম্যাচের দিন তো বটেই, অন্য সময়েও, সবার গায়ে থাকে হলুদ জার্সি, স্কুলগুলোতে গাওয়া হয় ক্লাবের গান।অথচ মাত্র ৮ হাজার ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়াম নিয়ে, বছর কয়েক আগেও তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগছিলো বোডো/গ্লিমট। ম্যাচের দিন ফাঁকা থাকতো স্টেডিয়াম। খেলোয়াড়দের বেতন দেয়ার পরিস্থিতি ছিলো না। স্থানীয় মতস্যজীবিরা ক্লাবকে মাছ তুলে দিতো বিক্রি করতে। তবে সেসব এখন অতীত। ২০২৫ সালে এসে নরওয়েজিয়ান লিগের সবচেয়ে ধনী ক্লাবের মর্যাদা পেয়েছে বোডো/গ্লিমট।আরও পড়ুন: মেক্সিকো থেকে বিশ্বকাপ সরছে না, আশ্বস্ত করল ফিফা ২০২০ থেকে ২৪—চারবার লিগ শিরোপা জিতেছে বোডো। মূলত মাঠের সাফল্যই ভাগ্য ঘুরিয়েছে ক্লাবটার। তবে এমন সাফল্যে তারকা ফুটবলার নয়, বরং কোচিং স্টাফে মনোযোগ দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ফুটবলারদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে, নিয়োগ দেয়া হয় একজন ফাইটার পাইলটকে।স্পোর্টসে সাইকোলোজিস্ট নিয়োগের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। তবে বোডোর বিষয়টা ভিন্ন।তবে ক্লাবটির এই সাফল্যের পেছনে যে মানুষটির কথা আলাদাভাবে বলতে হবে, তিনি ক্লাবের কোচ কিয়েতিল নুটসেন। ২০১৮ সাল থেকে আছেন বোডো/গ্লিমটের প্রধান কোচের ভূমিকায়। তাকে মানুষ শিক্ষক এবং ‘বার্গেন থেকে আগত উদ্ধারকর্তা’ হিসেবে চেনে। তার হাত ধরেই মূলত ক্লাবটির বদলে যাওয়া। খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে একই সঙ্গে মনোযোগ দেন নুটসেন, যার প্রভাব এখন বড় ম্যাচগুলোতেও দেখা যাচ্ছে।