কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে আগুন: ৩০ ট্যুরিস্ট জিপ ভস্মীভূত

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও আতঙ্ক কাটেনি। এ অগ্নিকাণ্ডে পাম্পের গ্যারেজটিতে পাকিং এ থাকা ৩০টি ট্যুরিস্ট জিপ পুড়ে গেছে। এ সময় ভস্মীভূত হয়েছে পাশের তিনটি ঘরও। এ ঘটনায় ৯জন দগ্ধসহ ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয়রা।বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে গ্যাস লিকেজ থেকে  কলাতলীর হোটেল–মোটেল জোনের পূর্ব দিকে আদর্শগ্রামে ওই পাম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর রাত ১টা দিকে ফায়ার সার্ভিস, সেনা ও বিমান বাহিনীর ৯টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় দগ্ধ ৯ জনকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে বলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার এলপিজি গ্যাস স্টেশনের তিন পাশে রয়েছে অসংখ্য বসতি। রয়েছে পর্যটকবাহী গাড়ি গ্যারেজও। যে গ্যারেজটিতে পাকিং এ থাকা ৩০টি ট্যুরিস্ট জিপ পুড়ে গেছে।পর্যটকবাহী একটি জিপের মালিক ও চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ করে আড়াই মাস আগে প্রস্তুত করা হয় গাড়িটি। কিন্তু গ্যাস পাম্পে আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে গাড়িটি।’আরও পড়ুন: কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিতিনি জানান, এই গ্যারেজের পাকিংয়ে পর্যটকবাহী ৪০টি জিপ ছিল। শুধুমাত্র ১০টি গাড়ি বের করতে পারলেও বাকি গাড়িগুলো পুড়ে ছাই। পুরো গ্যারেজ পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।ঘর পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মুন্নী বেগম জানান, আগুন থেকে বাঁচতে সন্তানদের নিয়ে বসতি থেকে বের হতে পারলে বসতি, আসবাবপত্র, স্বর্ণ ও নগদ টাকা শেষ হয়ে গেছে।মুন্নী বেগম বেগম বলেন, ‘বসতি তো শেষ। বসতির ভেতরে ৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ তিন লাখ টাকা পুড়ে গেছে। শুধুমাত্র জীবন নিয়ে এক কাপড়ে বের হতে পেরেছি। বাকি সবকিছু শেষ।’এ দিকে প্রশাসনের নির্দেশনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা বন্ধ রেখেছেন ঘরের রান্না-বান্না। তারা বলেন, এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।আরও পড়ুন: কক্সবাজারের আগুন: কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এলেও বন্ধ হয়নি গ্যাস লিকেজ, ১০ জন দগ্ধস্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘এখনো বসতিতে ঢুকতে পারেননি। রান্নাও হয়নি রাতে, অন্যত্রে আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে সেহেরি খেয়েছি। আতঙ্ক কাটছে না, কারণ ফায়ার সার্ভিস নির্দেশনা দিয়েছে আগুন না জ্বালাতে।’এ দিকে সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। আর ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজার স্টেশনের উপ সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংক ঘিরে এ আগুন। পাম্পটি চালু হয়েছে মাত্র ৩ দিন আগে। গ্যাস পাম্পে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা বা অনুমতি ছিল না। অনুমোদনহীন পাম্প চালু করায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।