রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র, হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ, চামড়াজাত দ্রব্যসহ অনুমোদিত বিভিন্ন খাতে রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা ও প্রণোদনা দিতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় কিস্তি হিসেবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় করেছে সরকার। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক রফতানির বিপরীতে ১ শতাংশ হারে বিশেষ নগদ সহায়তা প্রদানের জন্যও এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে এই অর্থ ছাড় করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশোধিত বাজেটে ভর্তুকি ও প্রণোদনা ব্যবস্থাপনা কোডের আওতায় ‘সাধারণ রফতানি প্রণোদনা’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে এ তৃতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুকূলে। ছাড়কৃত অর্থের ভিত্তিতে হিসাব মহা-নিয়ন্ত্রক ডেবিট অথরিটি জারি করবে এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রফতানিকারকদের ভর্তুকি দাবি অনুযায়ী এ অর্থ পরিশোধ করা হবে। আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন স্থগিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছাড়কৃত অর্থ শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে খাতভিত্তিক নগদ সহায়তা বা প্রণোদনা হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না। দাবি পরিশোধের পর নিরীক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ প্রদান প্রমাণিত হলে তা আদায় করে সংশ্লিষ্ট গ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিষয়টি অর্থ বিভাগকে জানাতে হবে। এছাড়া নগদ সহায়তা প্রদানসংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালা ও আর্থিক বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। সহায়তা গ্রহণকারীকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে অঙ্গীকার দিতে হবে যে, অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে এবং অর্থ ফেরত দেয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, চলতি অর্থবছর শেষে নগদ সহায়তা ও প্রণোদনার কার্যকারিতা এবং এর প্রভাব নিয়ে একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে খাতভিত্তিক ও ব্যাংকভিত্তিক ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ সংযুক্ত তহবিল থেকে উত্তোলন করা যাবে। নগদ সহায়তা প্রদানে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।