যৌন অপরাধী ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নথিপত্র নিয়ে সাম্প্রতিক তদন্তে গুরুতর অস্পষ্টতা প্রকাশ পেয়েছে। এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কিত সাক্ষাৎকারসহ কয়েক ডজন এফবিআই ফাইল হারিয়ে গেছে। পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক এপস্টেইনের নথিপত্র ব্যাপকভাবে প্রকাশের সময় প্রায় ৩২৫টি এফবিআই সাক্ষীর সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনের মধ্যে ৯০টিরও বেশি ফাইল বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে না বলে খবর বের হয়েছে। এই নথিগুলো যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এক আমেরিকান অর্থদাতা জেফ্রি এপস্টেইনের তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। হারিয়ে যাওয়া নথিপত্রের মধ্যে তিনটি প্রতিবেদন এমন এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কিত যিনি দাবি করেছিলেন যে, এপস্টেইন ১৩ বছর বয়স থেকেই তাকে নির্যাতন করেছিলেন এবং মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও তিনি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। হাউজ ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া এপস্টেইনের নথিপত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের একজন বেঁচে থাকা ব্যক্তি আছেন যিনি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন, কিন্তু তার সঙ্গে এফবিআইয়ের কিছু সাক্ষাৎকার পাওয়া যায়নি। মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকার আইন কতটা মেনে চলছে তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র নথি অপসারণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, আমরা কিছুই সরিয়ে ফেলিনি এবং সব প্রাসঙ্গিক নথি প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু নথি ‘নকল, গোপনীয়তা বা চলমান তদন্তের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতার কারণে প্রকাশ করা হয়নি। বিচারিক স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগআইনি বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এফবিআইয়ের তথাকথিত ‘৩০২’ প্রতিবেদন যা সাক্ষাৎকারের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে এপস্টেইনের নথিগুলোর বহু বছরের তদন্ত বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এফবিআইয়ের সাবেক উপ-পরিচালক অ্যান্ড্রু ম্যাককেব নথিগুলোকে ‘যে কোনো তদন্তের কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে কিছু ভুক্তভোগী এপস্টেইনের নথি সম্পূর্ণ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘স্বচ্ছতার অভাব’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই ব্যর্থতা কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি গভীরভাবে ব্যক্তিগত এবং একটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দায়ী বলে একজন বাদী ফেডারেল বিচারকের কাছে লেখা একটি চিঠিতে জানিয়েছেন। এপস্টেইনের মামলাটি আমেরিকার সবচেয়ে বিতর্কিত রাজনৈতিক ও বিচারিক কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে একটি এবং এর কিছু নথির ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। টিটিএন