গাজায় এতিম শিশুদের নিয়ে ভিন্নধর্মী ইফতারের আয়োজন

ধ্বংসস্তূপের ভেতরও গাজায় নিভে যায়নি রমজানের আলো। উপত্যকাটির দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসে শত শত এতিম শিশুকে নিয়ে আয়োজিত হলো এক ভিন্নধর্মী ইফতার। এদিকে, আল শাতি শরণার্থী শিবিরে ইট-পাথরের স্তূপের মধ্যেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ইফতার করেছেন হার না মানা গাজাবাসীরা। এমন আয়োজন যেন বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দিচ্ছে সংহতির এক নিঃশব্দ বার্তা।রোজা রাখলে একসময় বাবা-মা উদগ্রীব হয়ে থাকতেন ইফতারে সন্তানদের কী খাওয়াবেন তা নিয়ে। তবে ইসরাইলি আগ্রাসনে বাবা-মা হারানো এতিম এ শিশুদের কাছে এখন সেগুলো কেবলই স্মৃতি। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে অস্থায়ী তাঁবু শিবিরের ফাঁকা জায়গায় সারিবদ্ধ হয়ে বসে পড়ে শত শত ফিলিস্তিনি এতিম শিশু। তাদের জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ ইফতার। খেজুর, গরম খাবার আর মিষ্টি দিয়ে রোজা ভাঙার সেই মুহূর্তে ক্লান্ত মুখে ফুটে ওঠে সামান্য হাসি, যেন যুদ্ধের অন্ধকারে এক চিলতে আলো। ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, ‘এই যুদ্ধে বিমান হামলায় আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। আমি কখনও ভাবিনি যে আমি এতিম হয়ে অন্য এতিমদের সঙ্গে একই টেবিলে বসব। আজ আমাকে রক্ষা করার মতো আমার বাবা নেই। আমি আমার জীবনের ভরসা, আমার সবকিছু হারিয়েছি।’  আরও পড়ুন: রমজানের প্রথম দিন গাজায় ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনি যুবক নিহত ইফতারের পর পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী ইসলামি সংগীত। শিশুদের কেউ হাততালি দেয়, কেউ চুপচাপ তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে। আয়োজকদের ভাষায়, এটি শুধু ইফতারের আয়োজন নয় বরং মানসিক সান্ত্বনা, সহমর্মিতা আর ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা। বারবার বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবু বা বিধ্বস্ত ভবনে আশ্রয় নেয়া এই শিশুদের জন্য এমন আয়োজন কিছুটা স্বাভাবিকতার অনুভূতি ফিরিয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করেন আয়োজকরা। এদিকে গাজা সিটির পশ্চিমে আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ইফতার করছেন বাসিন্দারা। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পর এটিই তাদের প্রথম রমজান। ভাঙা দেয়াল, ছিন্নবিচ্ছিন্ন বাড়ির পাশে বসেই চলছে ইফতার। কিন্তু বিশ্বাস আর ধৈর্য আঁকড়ে ধরে তারা অপেক্ষা করছে এক শান্ত সকালের।