ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কয়েকটি অঞ্চলে ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন। পুতিন বাহিনীর পাল্টা হামলায় ইউক্রেনে চারজন নিহত ও ১৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে চলমান হামলার মাঝেই ফের শান্তি আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ও ইউক্রেন।রাশিয়ার স্মোলেনস্ক অঞ্চলের ডোরোগোবুজ শহরের একটি সার কারখানায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। সীমান্ত থেকে ২৯০ কিলোমিটার ভেতরে এই হামলায় কয়েকজন হতাহত হন। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, অন্তত ৩০টি বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়, যা গত চার বছরের যুদ্ধে রাশিয়ার কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানে অন্যতম প্রাণঘাতী আক্রমণ। হামলার পর কারখানাটিতে আগুন লেগে যায়। একইদিন রাশিয়ার বেলগোরোদ ও ব্রায়ানস্ক অঞ্চলেও হামলা চালায় জেলেনস্কির সেনারা। এতে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রভস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং খেরসনে রুশ গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। রাতভর শতাধিক ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিসাইল দিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় পুতিনের সেনারা। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশার কথা শুনিয়েছেন। জেনেভায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারির ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর থেকে ইউক্রেন-রাশিয়া আলোচনায় গত চার বছরের তুলনায় গত আট সপ্তাহে বেশি উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় জেনেভায় ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। আরও পড়ুন: ইউক্রেনকে গোপনে পরমাণু অস্ত্র দেয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স, দাবি রাশিয়ার এদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করে বলেছেন, শান্তি চুক্তির পথে প্রধান বাধা হলো রাশিয়ার রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং ভূখণ্ড ইস্যু। তিনি স্পষ্ট জানান, ইউক্রেনে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই এবং রাশিয়ার এমন দাবি ভিত্তিহীন। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ঘোষণা করেন, ইউক্রেনে তৈরি ১৪০০ কিলোমিটার পাল্লার নতুন ক্রুজ মিসাইল সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এটিকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার বড় সাফল্য বলে দাবি করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর। যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে চাপ দেয়ার অনুরোধ জানান ফ্রেডরিখ মের্ৎস।