উম্মুল মাদারিস ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী মাদরাসায়) যারা নতুন ভর্তির স্বপ্ন দেখছেন, তাদের ভর্তিপ্রক্রিয়া সহজ করতে নিচের নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।১. ভর্তি ও টিসি সংক্রান্ত নিয়মাবলী(ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া) সরাসরি ভর্তি: হাটহাজারীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত (মুলহাক) কোনো মাদ্রাসা থেকে টিসি (ছাড়পত্র) নিয়ে আসলে সরাসরি ভর্তি হওয়া সম্ভব। ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ভর্তি: টিসি না থাকলে অবশ্যই নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: যারা ভর্তি পরীক্ষা না দিয়ে আগামী বছর সরাসরি ভর্তি হতে চান, তারা হাটহাজারীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত কোনো মাদ্রাসায় ভর্তি হতে পারেন, যেন পরবর্তী বছর টিসি নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি হওয়া যায়। কোন ক্লাসে ভর্তির জন্য কোন কিতাবের পরীক্ষা নেয়া হয় সেটা কমেন্ট বক্সে দিয়ে দিচ্ছি। ২. যোগাযোগ ও সঙ্গমাদ্রাসায় আসার আগে পরিচিত কোনো পুরাতন ছাত্র ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করুন। সেখানে পৌঁছানোর পর তার পরামর্শ ও সাহচর্যে থাকলে অনেক জটিল কাজ সহজ হয়ে যাবে। তাই আগে খোঁজ নিয়ে দেখবেন, নিজের পরিচিত কেউ আছে কিনা। ৩. বড় মসজিদের গুরুত্ব (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)মাদ্রাসা খোলার দিন থেকে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বড় মসজিদে আদায় করা অপরিহার্য। কারণ ভর্তি, সিট বরাদ্দ, খানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা নামাজের পরপরই বড় মসজিদে দেয়া হয়। ৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফাইল,ভর্তির সময় সাথে করে নিচের জিনিসগুলো অবশ্যই আনবেন,* পাসপোর্ট সাইজ ছবি: ৪-৬ কপি।* স্ট্যাম্প সাইজ ছবি: ২-৪ কপি।* জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধনের ৩-৪টি ফটোকপি।* আরবিতে লিখিত ভর্তির দরখাস্ত।* সাদা A4 সাইজের কাগজ: ৮-১০টি।* সকল কাগজপত্র সংরক্ষণের জন্য একটি মজবুত ফাইল। ৫. ভর্তি পরীক্ষা ও ফলাফলশরহে বেকায়াহ থেকে তাখাসসুস পর্যন্ত ৪-৫টি মৌলিক কিতাবের ওপর লিখিত পরীক্ষা হয়। পাস নম্বর: সর্বনিম্ন ৩৩ পেতে হবে। তবে ৩৩ থেকে ৪৫-এর মধ্যে নম্বর পেলে ভর্তির সুযোগ থাকলেও খাবার (খানা) ফ্রি হওয়ার সুযোগ থাকে না। ৪৫-এর বেশি নম্বর পেলে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে খাবারের সুযোগ পাওয়ার সুযোগ থাকে। ৬. আবাসন ও সিট সংক্রান্ত তথ্যনতুন ছাত্রদের সিট পেতে কিছুটা সময় লাগে। ভর্তির আগে কোনো সিট বরাদ্দ দেয়া হয় না। সিট না পাওয়া পর্যন্ত বড় মসজিদে থাকার ব্যবস্থা থাকে।সতর্কতা: মসজিদে থাকাকালীন নিজের মালামাল সাবধানে রাখুন। অন্তত ২-৩ জন সাথী মিলে থাকলে একে অন্যের জিনিস পাহারা দেওয়া সহজ হয়। ৭. খাবার (খানা) ব্যবস্থাপনাসিট ও খানা কার্ড না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার খাবার কিনে খেতে হবে। খরচ: ১৫ দিনের জন্য ৬০০ টাকা এবং ১ মাসের জন্য ১২০০ টাকা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। মনে রাখবেন, রশিদ ছাড়া খাবার পাওয়া যাবে না। বাইরে খেতে চাইলে অবশ্যই আগে দামাদামি করে খাবেন। ৮. উচ্চতর শিক্ষা (তাখাসসুস)খাসসুসে ভর্তির জন্য বর্তমানে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে ফারেগ হওয়া (দাওরা পাস) জরুরি করা হয়েছে (২০২৫ সালের নিয়ম অনুযায়ী)। তাই তাখাসসুসে ভর্তির আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা পরিচিত কারো মাধ্যমে বর্তমান নিয়ম জেনে আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যথায় ফিরে যেতে হতে পারে। ৯. ভর্তি কি নিশ্চিত?হাটহাজারীতে গেলেই ভর্তি নিশ্চিত- এমন ধারণা ভুল। পরীক্ষা দেওয়ার পরও অনেক সময় ভালো ছাত্ররা সুযোগ পায় না। তাই প্রস্তুতির পাশাপাশি আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া করতে থাকুন। ১০. ধৈর্য ও মানসিক প্রস্তুতিবিশাল এই ছাত্রসমুদ্রে প্রতিটি কাজে দীর্ঘ লাইন থাকবে। থাকা, খাওয়া ও ঘুমের ক্ষেত্রে সাময়িক কষ্ট হতে পারে। ধৈর্য ও সহনশীল মানসিকতা নিয়ে আসলে এই সফর আপনার জন্য সহজ হবে। ১১. ভর্তি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক ধাপ১. নির্ধারিত দিনে আবেদনপত্র জমা দিয়ে এবং ফি পরিশোধ করে রশিদ ও ভর্তি ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ২. ফরমের সাথে পাওয়া প্রবেশপত্রটি যত্ন করে রাখতে হবে। ৩. পরীক্ষার ২-৩ দিন পর রেজাল্ট দিলে নিজের নাম চেক করুন নাম না আসলে কিছু করার নেই। (নাম না আসলে ভর্তির ব্যাপারে কোনো সুপারিশ কাজে আসে না)। ৪. নাম আসলে বড় মসজিদের ঘোষণা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। ৫. ভর্তির পর বায়োমেট্রিক (ফেস হাজিরা) সম্পন্ন হলে আপনি একজন নিয়মিত ছাত্র হিসেবে গণ্য হবেন। ১২. অতি সতর্কতামাদ্রাসা থেকে দেওয়া প্রতিটি রশিদ ও কাগজ ফাইলের মধ্যে সযত্নে সংরক্ষণ করুন। যেকোনো দাপ্তরিক প্রয়োজনে এগুলো তাৎক্ষণিক দেখাতে হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা আপনাদের ইলম অন্বেষণের এই সফরকে কবুল ও সহজ করে দিন। আমীন। লেখক: ফাজেলে হাটহাজারী