মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, পদক্ষেপ নেই রসিকের

‎ ‎প্রকৃতিতে বইছে ফাগুনের হাওয়া। বসন্তের এই ফাগুন হাওয়ায় স্বস্তির বদলে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন রংপুর নগরীর বাসিন্দারা। দিন-রাত সর্বত্র মশার কামড়ে নাজেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।‎বিশেষ করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্যামাসুন্দরী ও কেডি খালকে ঘিরে মশার বংশবিস্তার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিকেল থেকেই মশার উৎপাত শুরু হয় বাসাবাড়িতে। অফিস আদালতেও মশার উপদ্রবের কমতি নেই। নগরবাসী মশায় অতিষ্ঠ হলেও ড্রেন পরিষ্কার কিংবা মশা নিধনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)। ‎‎নগরবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি সংস্কার ও পরিষ্কার না করার কারণে পানি স্থির হয়ে আছে। এতে খালগুলো মশা উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা নামলেই মশা ঝাঁকে ঝাঁকে ঘরে-বাইরে আক্রমণ করছে। অনেক এলাকায় স্প্রে ও কয়েল ব্যবহার করেও মশা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না মশার উপদ্রব।‎‎স্থানীয়রা জানান, এক সময়ের শ্যামা সুন্দরী খালটি ঘাঘট নদী থেকে শুরু করে নগরীর ধাপ পাশারীপাড়া, কেরানীপাড়া, মুন্সিপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, গোমস্তাপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, তেঁতুলতলা, নূরপুর, বৈরাগীপাড়া হয়ে মাহিগঞ্জের মরা ঘাঘটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় খালটি নাব্যতা যেমন হারিয়ে ফেলেছে, তেমনি মশার বংশ বিস্তারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।‎‎আরও পড়ুন: টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, রসিকের সাবেক মেয়র মোস্তফার বিরুদ্ধে দুদকের মামলাকেডি খাল সংলগ্ন বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কেডি খাল পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে শ্যামাসুন্দরীর চেয়ে বেশি মশা জন্ম নিচ্ছে এই খালে। এছাড়া নগরীর ড্রেন, পুকুর-জলাশয়গুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় সেখানেও উৎপাদন মশা জন্ম নিচ্ছে। দিনে-রাতে সর্বত্র মশার অত্যাচারের কারণে মশাবাহিত রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মশার কারণে সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে মশারি টাঙিয়ে পড়াশোনা করছে।‎‎নগরীর ধাপ এলাকার নুরুল ইসলাম বাবু বলেন, সিটি করপোরেশনে মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকার কারনে কোনো রকম তদারকিও নেই। নগরীতে মশা নিধনের কোনো কার্যক্রম চলছে কি না তা বুঝতে পারছি না। আমাদের এলাকায় শেষবার কবে মশক নিধন করেছে, তা মনে করতে পারছি না। তাছাড়া শ্যামা সুন্দরী খাল অপরিষ্কার থাকার কারনে মশা তৈরির কারখানা হয়েছে। শ্যামা সুন্দরী খাল পরিষ্কার থাকলে মশার উপদ্রব কমতো।‎‎এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা প্রধান মিজানুর রহমান মিজু বলেন, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার মশা বেড়েছে। তাই এবারে মশক নিধনে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার লিটার ওষুধ কেনা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৮০টি নতুন ফগার মেশিন কেনা হয়েছে। এছাড়াও ৬৬টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিনও কেনা হয়েছে। ‎‎তিনি আরও বলেন, পবিত্র রমজান মাসের কারণে ব্যাপকভাবে মশক নিধন অভিযান শুরু করা যাচ্ছে না। তারপরও ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় পুরোপুরি মশক নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৩৩টি ওয়ার্ডেই মশা নিধন করা হবে।