পশ্চিমবঙ্গে এক আদিবাসী নারীর ন্যায়বিচারের দাবিতে উত্তরবঙ্গের সচিবালয় উত্তরকন্যা ঘেরাও অভিযান ঘিরে হঠাৎ রণক্ষেত্র হয়ে উঠলো শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি এলাকা। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছোড়া হলো কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, সঙ্গে পুলিশের লাঠিচার্জ। জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর এক আদিবাসী পরিবারের জমি অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগ ওঠে। জমি দখলের প্রতিবাদ করায় এক আদিবাসী অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণ করে পেটে লাথি মারেন এক ‘সিভিক ভলান্টিয়ার’। এতে গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উত্তরকন্যা অভিযানে অংশ নেয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংগঠন ‘জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ’। তা নিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাজারও মানুষ উত্তরকন্যা অভিযানের সময় পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করে। সে সময় পুলিশের ব্যারিকেড টপকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এরপরই রণক্ষেত্রে রূপ নেয় গোটা উত্তরকন্যা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেখে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও জলকামান থেকে পানি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে। এছাড়া মৃদু লাঠিচার্জও করে। এ বিষয়ে স্থানীয় এমএলএ শিখা চ্যাটার্জী জানান, এক আদিবাসী নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং তার গর্ভস্থ সন্তানকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা প্রতিবাদ করে অভিযোগ জানাতে উত্তরকন্যার দিকে যাচ্ছিলাম। কারণ সেখানে সব মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা থাকেন। কিন্তু আমাদের আটকানোর জন্য পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে, কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। তিনি আরও বলেন, কী ধরনের পুলিশি আচরণ করছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সরকার। একটি অভিযোগ জানাতেও দেয় না। আগামীদিনে পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং আহত আন্দোলনকারীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার দাবি জানিয়েছে বিজেপি। ডিডি/কেএএ/