অগ্নিসুরক্ষা ছাড়াই চালু হয় নতুন গ্যাস পাম্প, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও কাটেনি আতঙ্ক। আগুন পুরোপুরি নিভে গেলও ভেসে উঠেছে ক্ষত চিহ্ন। পুড়ে ছাই কোটি টাকার মালামাল। তবে এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফায়ার সার্ভিসের দাবি, পাম্পটিতে কোনো ধরনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না, এমনকি ছিল না পরিচালনার বৈধ অনুমতিও। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।হঠাৎ এক দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো রাতের ঘুম। পুড়ে ছাই কোটি টাকার মালামাল। আর্থিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্তরা। কক্সবাজার এলপিজি গ্যাস স্টেশনের ৩ পাশে অসংখ্য বসতি। আছে পর্যটকবাহী গাড়ির গ্যারেজও। বুধবার রাতে এলপিজি গ্যাস স্টেশনে আগুন লাগে। তাৎক্ষণিক ১০টি গাড়ি বের করতে পারলেও ছড়িয়ে পড়া আগুনে পুড়ে ছাই ৩০টি গাড়ি।আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটকবাহী জিপের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খুব দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ডিউটিরত অবস্থায় আমার একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সে সময় সরকার থেকে আমি কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তা পাইনি। পরবর্তীতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গাড়িটি পুনরায় মেরামত ও চালু করি। সব মিলিয়ে গাড়িটির পেছনে আমার প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। গাড়িটি চালু করার মাত্র আড়াই মাসের মাথায় বুধবার আবার তা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বর্তমানে আমি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। তাই সরকারের কাছে আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। পাশাপাশি, যেখানে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই গ্যাস পাম্পটি যেন সেখানে আর পরিচালিত না হয় এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’গাড়িচালক হালিম বলেন, ‘আমার মালিকের ৩টি জিপ গাড়ি ছিল। যা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন আমি কিভাবে চলবো, আর মালিক বা কিভাবে চলবে?’নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাড়ির মালিক বলেন, ‘গ্যারেজে অনেক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে আমার গাড়িটিও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও ভেতরে থাকা গ্যারেজের মালামাল সবই আগুনে নষ্ট হয়েছে। গাড়িটি মাত্র কয়েকদিন আগে চূড়ান্ত রং করে রাস্তায় চলার উপযোগী করা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই সবকিছু শেষ হয়ে গেল। এখন গাড়ির ভেতরে যে মালামাল পুড়ে গেছে, সেগুলো নতুন করে কিনতে গেলে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাগবে। এই ক্ষতির দায়ভার কে নেবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।’তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো- এই গ্যাস পাম্প স্থাপনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি আশপাশে বসতবাড়ি ও মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন? সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকি থাকলে হয়তো আজ এত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।’আরও পড়ুন: শরীর থেকে বের হচ্ছিল ধোঁয়া, গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যআরেক জিপ গাড়ির মালিক শামসুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমরা শুধু ক্ষতিপূরণটা পেতে চাই। অগ্নিকাণ্ডের সময় আমার গ্যারেজে প্রায় ৩০-৪০টি গাড়ি ছিল। আগুন লাগার সময় ২৫-৩০টি গাড়ি পুড়ে যায়, যার মধ্যে ১৪-১৫টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলোর আর কোনোভাবে ব্যবহার সম্ভব নয়। বাকি গাড়িগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার নিজের গাড়িটিও সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। শুধু আমার নয়, আরও অনেকের গাড়ি নষ্ট হয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকার একদম পাশে গ্যাস পাম্প স্থাপন এবং গ্যাস লিকের ঘটনায় সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’শামসুদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা সবাই আমাদের জীবিকার জন্য এই গাড়িগুলোর ওপর নির্ভরশীল। সামনে ঈদের মৌসুম উপলক্ষে গাড়িগুলো সাজিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, ভালো আয়ের আশায়। কিন্তু আজ আমরা সবাই নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি।’এদিকে, গ্যাস পাম্পের পেছনে ছিল মুন্নী বেগমের বসতি। আগুন থেকে বাঁচতে সন্তানদের নিয়ে দৌড়ে বাইরে বের হন তিনি। তবে রক্ষা পায়নি তার ঘরের আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার। ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার গ্যাস ট্যাংক চারপাশে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে স্থানীয়রা। প্রশাসনের নির্দেশনায় বন্ধ ঘরের রান্না-বান্না।ক্ষতিগ্রস্ত মুন্নী বেগম বলেন, ‘আগুন লাগার সময় আমি বাচ্চাদের নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসি। ভেতর থেকে কিছুই নিতে পারিনি। আমার নগদ ৩ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এখন আমাদের কাছে কিছুই নেই। আমি শুধু গায়ের একটি কাপড় নিয়েই ঘর ছেড়েছি। ঘরে পাঁচজনের একটি পরিবার থাকতাম। আজ আমরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।’স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ আহমদ বলেন, ‘এখনও ভয়ের পরিবেশ কাটেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি, তাই ওই এলাকায় না যেতে বলা হয়েছে। সে কারণেই আমরা এখনও বাইরে অবস্থান করছি এবং আতঙ্কের মধ্যে আছি।’আরেক বাসিন্দা সিরাজ বলেন, ‘পরিস্থিতির কারণে আমরা ঘরে ঢুকতে পারছি না। বাইরে অবস্থান করায় ঠিকমতো রোজাও রাখতে পারছি না। পানি খেয়ে কোনোভাবে রোজা রাখছি। গ্যাসের ঝুঁকি থাকায় ঘরে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। কোথাও যাওয়ারও জায়গা নেই, অন্য কোনো বাসায় আশ্রয় নেয়ার সুযোগও পাচ্ছি না। আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি।’স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, ‘গ্যাস ঢোকানোর সময় লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অনেক চেষ্টা করেও প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি; পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু জনবহুল ও আবাসিক এলাকার ভেতরে গ্যাস পাম্প স্থাপন করা মোটেই যৌক্তিক হয়নি। এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকের বাড়িঘর পুড়েছে, অনেকে আহত হয়েছে। তাই দ্রুত এই গ্যাস পাম্প অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’এদিকে, বৃহস্পতিবারও ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিসের দল। তারা জানায়, গ্যাস পাম্পে ছিল না অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা। তাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে আগুন।কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে আমাদের ইউনিটগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। আমরা মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করি যেন কেউ বিড়ি-সিগারেট না খায় বা আগুন না জ্বালায়, কারণ তখন প্রচুর পরিমাণে গ্যাস রিলিজ হচ্ছিল। কিন্তু রাত প্রায় ১০টার পর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে জিপ স্টেশনের কাছে কোনোভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তা বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় আগুন ধরে যায়। আমরা রাত ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি এবং ২টা ৫০ মিনিটে সম্পূর্ণ নির্বাপণ করি। বর্তমানে গ্যাস রিলিজ নেই। পুরো সময়জুড়ে আমরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা চালু রাখি।’সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গ্যাস পাম্প কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল বলে আমরা দেখিনি। এছাড়া ডিসি অফিস বা আমাদের দফতর থেকে কোনো ধরনের অনুমতি ছিল কি না- সেটিও আমাদের জানা নেই।’আরও পড়ুন: বরিশালে আগুনে ৫ পরিবারের স্বপ্ন পুড়ে ছাইএদিকে দুর্ঘটনাস্থলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোতায়েন করা হয়েছিল সেনাবাহিনী। সকালে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান খান, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ঘটনাস্থল আসেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পুরো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর আহতদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেয় জেলা প্রশাসন।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘গতকাল বুধবার কক্সবাজারের একটি এলপিজি স্টেশনে দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় রাতের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী ১০ জন আহত হন, যার মধ্যে ২ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে রিলিজ করা হয়েছে এবং ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাতেই কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহায়তায় হাসপাতালে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারও হাসপাতালে উপস্থিত আত্মীয়দের খোঁজ-খবর নিয়ে তাদের আরও ভালো চিকিৎসা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আহতদের সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হবে।’এছাড়াও, দুর্যোগ সচিব নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মন্ত্রণালয় পর্যায় থেকে আমরা দেখছি, প্রয়োজনে কীভাবে আরও সহায়তা করা যায় তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘গ্যাস লিকেজ থেকেই এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। রাত প্রায় ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। সময়মতো পদক্ষেপ নেয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। বর্তমানে এডিএমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল কিনা, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। মালিকপক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণ সহযোগিতা করবো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জেলা প্রতিনিধি এবং সচিব মহোদয় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, জেলা প্রশাসকও সরেজমিনে এসে পরিস্থিতি দেখেছেন। ইনশাআল্লাহ দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে। আমরা সবসময় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি।’এদিকে, দগ্ধদের মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এদেরমধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসক।বার্ন ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিক উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আহতদের শরীরের ২০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সবারই অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’।আগুনে দগ্ধ যে ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তারা হলেন: আবদুর রহিম (৩২), সিরাজ (৩০), আবু তাহের (৪০), আবুল কাওসার (২৭), সাকিব (৩০) ও মোতাহের (৪৫)।তাদের মধ্যে আবু তাহেরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অন্যান্যদের মধ্যে রহিমের ৫০ শতাংশ, সিরাজের ৪০ শতাংশ, কাওসারের ২০ শতাংশ, সাকিবের ৩০ শতাংশ এবং মোতাহারের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।আরও পড়ুন: কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে আগুন: ৩০ ট্যুরিস্ট জিপ ভস্মীভূতএদিকে, কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটা গ্যাস পাম্পটি গত মঙ্গলবার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনের পরদিন গতকাল বুধবার রাতে পাইপ লাইন ফুটো হয়ে সেখানে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আহতদের মধ্যে এলপিজি গ্যাস পাম্পের কর্মচারী ও পথচারী রয়েছেন।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া সতর্কতা না মেনে জনবহুল স্থানে এটি চালু করা হয়েছিল। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি।তবে ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’ নামে গ্যাস পাম্পটির মালিক রামুর বাসিন্দা এন আলম গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, পাম্পের ছাড়পত্র আছে। তদন্ত কমিটির কাছে কাগজপত্র যথাসময়ে উপস্থাপন করবেন তিনি।ব্যবসা-বাণিজ্য থাকলে দুর্ঘটনা ঘটবে উল্লেখ করে এন আলম আরও বলেন, ‘আগুনে যারা দগ্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে আছেন তিনি।’