চাঁদপুর সদরের মেঘনা নদীর পশ্চিমপাড়ের ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে প্রজেক্ট তৈরির নামে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে অনবরত কৃষি জমির টপসয়েল কেটে ফেলছে একটি অসাধু চক্র। এতে শত শত কৃষকের কৃষি জমি বিনষ্ট এবং দখল হয়ে যাচ্ছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফের সেখানে অভিযান চালিয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পী দত্ত রনির নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে জব্দ করা একটি ভেকু বিকল করে দেয়া হয়।এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা প্রশাসনের একটি সভায় ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চাঁদপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। কৃষি জমিতে অবৈধ পন্থায় ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানান তিনি। প্রয়োজনে মাটিখেকো এসব ভেকু জব্দ করে চাঁদপুরে নিয়ে আসার নির্দেশও দেন শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে বহুকাল ধরে স্থানীয় কৃষকরা কৃষিকাজ করে আসছেন। সেখানে তারা প্রতি মৌসুমে সরিষা, আলু, ধনেপাতা, কালো জিরা ও ধানসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির চাষ করে থাকে। গেল কয়েক বছর ধরে এসব কৃষি জমিতে স্থানীয় একটি চক্রের চোখ পড়েছে। তারা ফসলি জমি নষ্ট করে প্রজেক্ট করার নামে ভেকু দিয়ে জমির টপসয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, স্থানীয় চান্দু চৌকিদার, সুরুজ চৌকিদার, ঈমান শেখ, সবুজ সরদার, মমিন দিদার, বিল্লাল গাজী, রহমত তালুকদার, মুক্তার তালুকদার, ইসমাইল তালুকদার, শাসন গাজীর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র এই চর দখল ও মাটি কাটার উৎসবে মেতেছে।আরও পড়ুন: মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে পুলিশের মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানএ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার এবং সদর উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ফলে দখলকারী চক্রটি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা কৃষকদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করা কৃষকদের ওপর হামলা অভিযোগও পাওয়া গেছে।এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ইব্রাহিমপুর চরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পূর্বে বিকল করা এবং সচলসহ ২টি ভেকু (এক্সকাভেটর) পাওয়া যায়। পরে সচল ভেকুটি (এক্সকাভেটর) বিকল করে দেয় হয়।’অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করতে না পারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি জমি ও চর দখলের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’