গণপিটুনিতে বাধা দেয়ায় পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৪

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অটোরিকশা চুরিকে কেন্দ্র করে সন্দেহভাজন চোরদের ওপর গণপিটুনি ঠেকাতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হন।বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দর আলী ব্যাপারী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদ। তাদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইফতারের কয়েক মিনিট আগে শাহআলম নামের এক চালক তার বাড়ির সামনের সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রেখে ইফতার করতে যান। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে চার সন্দেহভাজন চোরকে আটক করে রিকশাটি উদ্ধার করেন তিনি। তবে চক্রটি অটোরিকশার ব্যাটারিগুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। পরে আটক ব্যক্তিদের একটি বাড়িতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করা হয়। বিষয়টি স্থানীয় জনতা পুলিশকে জানালে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার ও গ্রেফতারের চেষ্টা করে। এ সময় অটোরিকশাচালক শাহআলম ও তার সহযোগীরা পুলিশের কাজে বাধা দেন। কিছু লোকজন ‘নিজেদের বিচার নিজেরাই করবেন’ বলে পুলিশের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই চার সন্দেহভাজন চোরকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। আরও পড়ুন: চিরকুটে ‘আই লাভ ইউ হারুন’ লিখে ফেসবুক লাইভে প্রাণ দিলেন তরুণী এদিকে ঘটনার পর অটোরিকশাচালক ও তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকা-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় সড়কে অগ্নিসংযোগ করে আধাঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় সড়ক অবরোধ তুলে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর ও রামগঞ্জ সার্কেল) মো. জামিলুল হক জানান, চোরদের গ্রেফতার ও মব জাস্টিস বন্ধে পুলিশি তৎপরতার সময় পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হন। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’