২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক ১২৯ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। দুই-তৃতীয়াংশ হত্যার জন্য দায়ী ইসরাইল। সম্প্রতি কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে আরও বলা হয়, ড্রোন হামলায় সাংবাদিক নিহতের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলা বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতার জন্য হয়ে উঠেছে বড় হুমকি।গাজায় ইসরাইলের নির্মম হত্যাকাণ্ড কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি মুহূর্তের খবর বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে সর্বদা কাজে নিয়োজিত থাকেন বহু সাংবাদিক। আর এসব সহিংসতা আর যুদ্ধে জনসাধারণের পাশাপাশি অনেক সময় প্রাণ হারান সাংবাদিকরাও। সম্প্রতি কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক ১২৯ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের দুই-তৃতীয়াংশ হত্যার জন্য দায়ী ইসরাইল। সিপিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সাংবাদিক মৃত্যুর নতুন রেকর্ড গড়েছে। ১২৯ জনের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন নিহত হয়েছেন সরাসরি সংঘাতপূর্ণ এলাকায়। এর মধ্যে ৮৬ জন নিহত হন ইসরাইলি হামলায়, যাদের বেশিরভাগই গাজায় কর্মরত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক। বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা এই আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে, ১৯৯২ সাল থেকে তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর কোনো দেশের সামরিক বাহিনী এত বেশি সাংবাদিক হত্যার সঙ্গে জড়িত হয়নি। আরও পড়ুন: ইথিওপিয়ায় রয়টার্সের তিন সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল লক্ষ্যভিত্তিক হত্যার ঘটনায় ৪৭টি কেস হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত করেছে সিপিজে, যার ৮১ শতাংশের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে সাংবাদিকরাও বেসামরিক নাগরিক। তাই তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা যুদ্ধাপরাধের শামিল। তবু অধিকাংশ ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়ায়, কাউকেই জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। দায়মুক্তির এই সংস্কৃতির কারণে ভবিষ্যতে হামলার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। ড্রোন হামলায় সাংবাদিক নিহতের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে এ ধরনের মৃত্যু ছিল মাত্র ২টি, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ এ। গাজায় ২৮ জন, সুদানে ৫ জন, ইউক্রেনে ৪ জনসহ বিভিন্ন সংঘাতে ড্রোন ব্যবহার করে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়েছে। সিপিজের মতে, দূরনিয়ন্ত্রিত ও নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ড্রোন এখন সাংবাদিকদের জন্য নতুন বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। সংঘাতময় অঞ্চল ছাড়াও মেক্সিকো, ভারত, ফিলিপিন্স, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সাংবাদিকরা হত্যা ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। দুর্বল আইনের শাসন, রাজনৈতিক প্রভাব ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য এসব হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। সিপিজের প্রধান জোডি গিন্সবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আন্তর্জাতিক তদন্ত কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।