প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন নতুন খবর ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের চাহিদা মেটাতে দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম নিয়মিত পাঠকের সামনে তুলে ধরছে সময় সংবাদ। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। ভোটের হাওয়া তৃণমূলে- এটা দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রধান খবর এটি। খবরে বলা হয়, জাতীয় সংসদের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলে বইছে ভোটের হাওয়া। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনগুলোতে তোড়জোড় চলছে। বিএনপি ও জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটের আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। পিছিয়ে নেই জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিও। জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদাভাবে করতে চায় দলটি। যদিও ছয় সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন চলছে। এদিকে তৃণমূলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তার জানানও দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেউ কেউ পোস্টার ও বিলবোর্ডে আগাম প্রচারও শুরু করেছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজন। সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেলে জুনেও ঢাকার দুটিসহ তিন সিটি করপোরেশনে ভোট করার মতো প্রস্তুতি আছে ইসির। এছাড়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নির্দলীয় প্রতীকে ভোটের বিধান রেখে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে যে সংশোধন আনা হয়েছিল, তা জাতীয় সংসদ অনুমোদন করে কিনা-সেদিকেও নজরে রাখছে ইসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মাফ- দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকার গঠনের ১০ দিনের মাথায় কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকেরা এ সুবিধা পাবেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে মওকুফ হবে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সুফল পাবেন।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ নেয়ার পর যত সুদই হোক, সুদ-আসলসহ পুরোটা মওকুফ হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এই হারে কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন, যা তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। নাসিমুল গনি আরও বলেন, ঋণের কিস্তি বাবদ যে অর্থ কৃষকের ব্যয় হতো, সেই অর্থ তাঁরা উন্নত মানের বীজ বা আধুনিক সেচপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। মাথার ওপর ঋণের বোঝা না থাকায় কৃষক পরবর্তী মৌসুমে নতুন উদ্যমে চাষাবাদ শুরু করতে সক্ষম হবেন। দৈনিক ২১ বিবাহ, ১১ বিচ্ছেদ-দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ খবর এটি। খবরে বলা হয়েছে, ঝিনাইদহে উদ্বেগজনক হারে বিবাহবিচ্ছেদ বেড়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত তিন বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় আদালত ও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জেলায় বিবাহ হয় আট হাজার ২৬টি আর বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে তিন হাজার ৯৮৪টি। গড়ে প্রতিদিন বিবাহ হয় ২১টি আর বিচ্ছেদ ঘটে ১১টি।স্থানীয় একাধিক সূত্র মতে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, পারিবারিক কলহ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, মাদকাসক্তিসহ নানা কারণে ভাঙছে সংসার। জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে আট হাজার ২৬ জন নারী-পুরুষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। একই বছর বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে তিন হাজার ৯৮৪টি। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৩৪৬ জন ও নারী দুই হাজার ২৩৪ জন বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন।