সেলুন আর দোকানের দখলে মাদারীপুরের যাত্রী ছাউনিগুলো

মাদারীপুরে জেলা পরিষদ নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলো এখন অবৈধ দখলদারদের হাতে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য এগুলো নির্মাণ করা হলেও সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছেন অসাধু ব্যক্তিরা। ফলে বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের, এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার মারাত্মক শঙ্কা।সরেজমিনে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সাধুর ব্রিজ বাসস্ট্যান্ড এবং সদর উপজেলার কলাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমন বেহাল চিত্র দেখা যায়। রাজৈর উপজেলার সাধুর ব্রিজ বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত যাত্রী ছাউনিতে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ সেলুন, ওষুধের ফার্মেসিসহ একাধিক দোকান। ফলে যাত্রীদের জন্য নির্মিত এই ছাউনির কোনো সুফলই মিলছে না। একই অবস্থা সদর উপজেলার কলাবাড়িসহ জেলার অন্যান্য যাত্রী ছাউনিগুলোর। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যাত্রী ছাউনিগুলোতে ফাটল ধরেছে এবং এগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়া এসব ছাউনিতে নেই টয়লেট কিংবা ফ্যানের ব্যবস্থা। রাতে আলোর ব্যবস্থাও থাকে না। রোদ-বৃষ্টিতে আশ্রয় নেয়ার জন্য নির্মিত এসব ছাউনি এখন যাত্রীদের কাছে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও নতুন করে কোনো যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়নি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলা পরিষদের অধীনে ছয়টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হলেও বছর না ঘুরতেই সেগুলো বেদখল হয়ে যায়। তাই প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। আরও পড়ুন: প্রেমের বিয়ের এক বছরের মাথায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক রাজৈরের আমগ্রামের বাসিন্দা মিন্টু বালা বলেন, ‘সাধুর ব্রিজ এলাকায় একটি যাত্রী ছাউনি থাকলেও সেখানে স্থানীয়দের দোকানপাট পরিচালিত হয়। আমরা এই ছাউনি থেকে কোনো সেবাই পাচ্ছি না।’ কলাবাড়ি এলাকার যাত্রী শিল্পী আক্তার বলেন, ‘সড়কের পাশে গড়ে ওঠা সবগুলো যাত্রী ছাউনি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং একটিও ব্যবহারের উপযোগী নয়। কোনোটি আবার দখল করে রেখেছেন স্থানীয় লোকজন। আমরা এই যাত্রী ছাউনির সেবা পেতে চাই।’ আরেক যাত্রী নুর নাহার বেগম বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক একটি ব্যস্ততম সড়ক। কখন যে কী হয়, সেটা বোঝা মুশকিল। আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারছি না। এখানে থাকা যাত্রী ছাউনিটা দখল করে নেয়া হয়েছে।’ এমন পরিস্থিতিতে যাত্রী ছাউনিগুলো দখলমুক্ত করে সংস্কারের মাধ্যমে পুনরায় চালুর আশ্বাস দিয়েছেন মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার হোসেন শাহীন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজন এগুলো দখল করে রেখেছে। তাদের সরে যেতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এগুলো ফের চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে।’