বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি ও গবেষণার যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা রোজার উপর গবেষণা করে সেই কথাই বলেছেন, যা নবী সা. ১৪ শত বছর পূর্বে বলে গেছেন। যদি সুস্থ থাকতে চাও, তাহলে রোজা রাখো।রোজার উপকারিতার কথা শুধু মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাই নয় বরং বিধর্মী চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাও স্বীকার করেন। রোজার দ্বারা চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা যে-সব উপকারিতার কথা বলেছেন, তার কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হল। এক মানসিক শক্তি ও বিশেষ বিশেষ অনুভূতিগুলো উপকৃত হয়। দুই স্মরণশক্তি বাড়ে। তিনি মনসংযোগ ও যুক্তিশক্তি বৃদ্ধি পায়। চার. ঘ্রানশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবন শক্তি বৃদ্ধি পায়। পাঁচ. খাদ্যের অরুচি ও অনিচ্ছা দূর করে। ছয়. রোজা রক্তের প্রধান পরিশোধক। যার কারণে শরীরে জীবনীশক্তি লাভ হয়। সাত. রোজার দ্বারা অটোফেজি হয়। অটোফেজি হল, নিজে নিজেকে খাওয়া। আরও পড়ুন: রমজান মাসে কি বিয়ে করা যাবে? রোজার কারণে যখন শরীরের কোষগুলো বাহিরের কোন খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না, তখন নিজেই নিজের অসুস্থ কোষগুলো খেতে শুরু করে। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।আট. শরীরের অতিরিক্ত উজন এবং মেদ-চর্বি কমায়। নয়. লিভারের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।দশ. ফুসফুসের কাশি, কঠিন সর্দি-কাশি এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার নিরাময় হয়। এগার, বাত রোগ, বহুমুত্র রোগ এবং অর্জীন রোগের আক্রমন কমে যায়। বারো. হৃদরোগ এবং রক্তচাপ জনিত রোগের আক্রমণ কমে যায়।তেরো. পেপটিক আলসার, হাপানী, উচ্চরক্তচাপের ক্ষেত্রে রোজা অনেক উপকারী। চৌদ্দ. কিডনিতে সঞ্চিত পাথর কনা ও চুন দূর হয়। পনেরো. রোজার দ্বারা ক্যান্সারের কোষ মারা যায়। আমাদের এ রোজাকে চিকিৎসা বিজ্ঞান অটোফেজি নাম দিয়েছে। আর অটোফেজি আবিষ্কার হয়েছে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে। তখন থেকে ভিন্ন ধর্মাবালম্বীরা সুস্থতার জন্য তা করতে শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ আমরা মুসলিমরা অটোফেজি করে আসছি হাজার হাজার বছর যাবৎ। শুধু আল্লাহ ও তাঁর রসুলের কথার উপর বিশ্বাস করে। সুতরাং রোজাতে কোন অকল্যাণ নাই। শুধুই কল্যাণ আর কল্যাণ।এটাই তো মহান আল্লাহ বহু বছর পূর্বেই বলে দিয়েছেন, আর রোজা রাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণের যদি তোমরা জানতে। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৪) রোজাদারের ফজিলত এক. রোজাদারের (ক্ষুধাজনিত কারণে) মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধির চাইতে বেশী প্রিয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস- ১৮৯৪) দুই. জান্নাতের রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে কেবল রোজাদাররাই প্রবেশ করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস- ১৮৯৬) তিন. রমজানের প্রথম রাতেই আল্লাহ তাআলা রোজাদারদের প্রতি রহমতের বিশেষ দৃষ্টি দান করেন। আর আল্লাহ তাআলা যার প্রতি রহমতের দৃষ্টি দান করেন তাকে কখনই আজাব দিবেন না। (তারগিব ১৪৯১) চার. রোজাদারের পুরস্কার আল্লাহ তাআলা নিজেই দিবেন। (বুখারি ১৮৯৪)পাঁচ. রোজাদারের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (বুখারি ১৯০১)ছয়. রমজানের প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। (যারা মৃত্যুর পর নিশ্চিত জাহান্নামি ছিল) আর ২৯ তম তারিখে অর্থাৎ শেষ দিনে সারা মাসে যে পরিমাণ মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সে পরিমাণ মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। (তারগিব ১৪৯১) লেখক: শিক্ষক,লালবাগ মাদ্রাসা ঢাকা, খতিব,আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ ঢাকা, পরিচালক,দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ