চাঁদার দাবিতে কারখানায় হামলা: আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, আতঙ্কে বাদী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন জিআই তার কারখানায় চাঁদার দাবিতে হামলার ঘটনার আসামিরা। দুইদিন বন্ধের পর পুলিশ পাহারায় চলছে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। বাদীর অভিযোগ, ঘটনার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও মামলার কার্যক্রমে অগ্রগতি নেই। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও ‘বি এল ও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামক কারখানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- কাজল আকন, নিশাত আকন, বিএনপিকর্মী মো. সাদিকুল ও ফাহিম। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে কারখানা মালিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে তারা হামলা চালিয়েছে। এসময় কারখানার ম্যানেজারসহ কর্মরত শ্রমিকদের মারধর ও জখম করে নগদ টাকাসহ অন্তত ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা। মামলার ১০দিন পার হলেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ও আসামিদের অব্যাহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান বাদী। এদিকে বাদীর অভিযোগের তীর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের দিকে। তার দাবি, মাহফুজুর রহমান নিজে ঘটনার সময় হাজির না হলেও তার নির্দেশেই কারখানায় হামলা ও লুটপাট হয়েছে। অন্যদিকে এলাকাবাসী বলছে, থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের জন্যই তাকে এই ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে। কারখানার শ্রমিকরা জানান, পেটের দায়ে জীবনের ভয় নিয়েও কারখানায় কাজ করতে হচ্ছে। কারখানার সামনে পুলিশ পাহারায় থাকলেও কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে বা কারখানায় আসা যাওয়ার সময় ভয়ে থাকতে হয় কখন কী হয়ে যায়। আমরা চাই, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। কালনী এলাকার আমির হোসেন, আবেদ আলী মোল্লা, জিন্দা এলাকার সেলিম, নাজিম উদ্দীন মিয়াসহ স্থানীয়রা বলেন, কারখানায় হামলার ঘটনায় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনকে জড়ানো উদ্দেশ্য প্রণোদিত। প্রকৃত অর্থে তিনি একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ। তার রাজনৈতিক বা ব্যক্তি জীবনে তার ধারা কারো কোনো ক্ষতি হয়েছে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাই কারখানায় হামলার ঘটনায় তাকে জড়িত করা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ছাড়া কিছু নয়। তাই এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে যে বা যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। মামলার বাদী মোনোয়ার হোসেন (অপু) বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে রূপগঞ্জের দাউদপুরে আমার মালিকানাধীন কারখানাটিতে জিআই তার তৈরি করে আসছি। এখানে প্রায় ২৫ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। স্থায়ী কতিপয় চাঁদাবাজরা আমার কারখানাটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ এককালীন ১০ লাখ টাকা ও প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা শর্তে চাঁদা দাবি করে আসছে। এদিকে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে গেরে ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রাসী বেলায়েত আকন্দ, সজল ও কাজলের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কারখানায় ঢুকে কারখানার মেইন গেট ও বাউন্ডারি প্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। কারখানাতে হামলা ভাঙচুর ও লুট করে। তিনি বলেন, এ ঘটনা রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হূমায়ূনকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। মাহফুজুর রহমান নিজে ঘটনার সময় হাজির না হলেও তার নির্দেশেই কারখানায় হামলা ও লুটপাট হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হূমায়ূন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও মন্ত্রী পরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পুরো দিনই ওখানে ছিলাম। পরে এলাকায় এসে এ ঘটনা জানতে পারি। আমি সবার সহযোগিতায় প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল জানান, কারখানাটি পুলিশ পাহারায় উৎপাদন কর্মকাণ্ড চালু রয়েছে। মামলার বিষয়টি তদন্ত করছে নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ। তদন্তের পর প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে ও জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাজমুল হুদা/এমএন/এএসএম