ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার মধ্যাঞ্চলের বুরেইজ শরণার্থী শিবির ও দক্ষিণের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় দুটি পুলিশ চৌকিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গত রাতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) চালানো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি চলমান যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ১০ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আল-মাওয়াসির আল-মাসলাখ মোড়ে একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে হামলায় চারজনের মরদেহ আনা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এলাকাটি ইসরাইলি বাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে চিকিৎসা সূত্র উল্লেখ করেছে। এদিকে মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের প্রবেশপথে আরেকটি ড্রোন হামলায় দুজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজাজুড়ে চলমান বোমাবর্ষণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, যা মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার প্রতি ইসরাইলের উদাসীনতা প্রমাণ করে। তিনি আরও বলেন, ইসরাইল কৌশল ও পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনলেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আরও পড়ুন: গাজায় জন্ম নেয়ায় ইসরাইলে ক্যান্সারের চিকিৎসা পেল না ৫ বছর বয়সী শিশু আল জাজিরার গাজা সিটি প্রতিনিধি জানান, রাতে একাধিক প্রাণঘাতী বিমান হামলা হয়েছে, যার বেশিরভাগই পুলিশ চৌকিকে লক্ষ্য করে। তার মতে, ইসরাইল গাজায় স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম বা সেবা পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিতে চায় না, তাই পুলিশসহ বিভিন্ন সেবা পুনরায় চালুর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে গাজার ক্রসিংস ও বর্ডার অথরিটি জানায়, বৃহস্পতিবার রাফাহ সীমান্ত দিয়ে ৫০ জন ফিলিস্তিনি মিশরে গেছেন। এর মধ্যে ১৩ জন রোগী ও ৩৭ জন সহযাত্রী ছিলেন। একই দিনে ৪১ জন গাজায় ফিরে এসেছেন। এদিন ২৮৬টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে ১৭৪টি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী এবং ১১২টি ত্রাণবাহী। তবে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় প্রায় ৬০০ ত্রাণ ট্রাকের তুলনায় এটি অনেক কম। অবরোধের কারণে গাজায় এখনো খাদ্যসংকট ও মানবিক দুর্ভোগ চলছে। আরও পড়ুন: ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ১২৯ সাংবাদিক নিহত, দুই-তৃতীয়াংশ হত্যার নেপথ্যে ইসরাইল