রাজধানীর গুলশানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আলোচিত ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদকে আবারও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি এলাকা থেকে তাকেসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতার অন্য আসামিরা হলেন: মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার।আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। মামলার জামিন শুনানির জন্য ১ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন। ওই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা রিয়াদ সেখানে গিয়ে আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কক্ষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে রিয়াদের নির্দেশে অন্য আসামিরা নির্জন সরদার বাঁধন নামে এক শিক্ষার্থীকে চেয়ার দিয়ে মারধর করেন। পরে রিয়াদ নিজের কাছে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বাঁধনের মুখে আঘাত করেন, এতে তার নাকের উপরিভাগ কেটে গুরুতর জখম হয়। আরও পড়ুন: ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে কিশোরীকে ‘ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা’, গ্রেফতার ৪ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত তাদের আটক করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাঁধন বাদী হয়ে গুলশান থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-২২ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন।উল্লেখ্য, রিয়াদ এর আগেও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। গত বছরের জুলাই মাসে গুলশানে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। রিয়াদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পরিচিত।গুলশান থানার সেকেন্ড অফিসার কাদের আহমেদ গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।