সীমান্তে লড়াই করছে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান। এর জেরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ অন্যান্য শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষের প্রতি ইসলামাবাদের ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেছে। তিনি ঘোষণা করেছেন, দুই দেশ এখন “খোলামেলা যুদ্ধ”র মাঝে আছে।খাজা আসিফের এই ঘোষণা আসে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের বক্তব্যের পর। তিনি বলেন, আফগানিস্তান ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে “বৃহৎ পরিসরের আক্রমণাত্মক অভিযান” চালাচ্ছে। ডুরান্ড লাইন দুই দেশের সীমান্ত নির্ধারণ করে।২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো। এতে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষ কয়েক ডজন হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে।কী ঘটেছে?শুক্রবার পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলেছেন, আফগান বাহিনী সীমান্তের কাছাকাছি পাক সেনাদের অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। যার জবাবে ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের ভেতরে, রাজধানী কাবুলসহ অন্যান্য শহরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে।আল জাজিরার প্রতিবেদক নাসের শাদিদ জানান, প্রথম পাকিস্তানি হামলা স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়। এরপর আফগান বাহিনী বিমান বিধ্বংসী গুলি চালায়।পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এক্স-এ বলেছেন, “আমাদের ধৈর্যের পেয়ালা উপচে পড়েছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে খোলামেলা যুদ্ধ।”পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার এক্স-এ লিখেছেন, কাবুল, দক্ষিণ-পূর্ব পাকতিয়া প্রদেশ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহারে “আফগান তালেবানের প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে” হামলা চালানো হয়েছে।আফগান সরকারের মুখপাত্র মুজাহিদও এক্স-এ দেওয়া পোস্টে নিশ্চিত করেছেন যে, এই তিনটি প্রদেশে হামলা চালানো হয়েছে।বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, হামলায় আফগানিস্তানের দুটি ব্রিগেড ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে বলে দুইজন জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা সংস্থাটিকে জানিয়েছেন। তবে গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পাকিস্তান টিভি তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির বাহিনী তালেবানের বেশ কিছু অবস্থান “ধ্বংস” করেছে।ওই মাধ্যমের তথ্যমতে, আফগানিস্তানে হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল কান্দাহারে তালেবানের একটি ব্রিগেড সদর দপ্তর ও গোলাবারুদ ডিপো, পাশাপাশি ওয়ালি খান সেক্টর, শাওয়াল সেক্টর, বাজাউর সেক্টর এবং আংগুর আড্ডায় তালেবান অবস্থান।পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কয়েকটি জেলায়ও আফগান তালেবান বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্দ, কুররাম ও বাজাউর জেলা। আরও পড়ুন: ২৭৪ তালেবান সেনা হত্যা, ৭৩ চৌকি ধ্বংসের দাবি পাকিস্তানেরশুক্রবার পরবর্তীতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তোরখাম সীমান্ত ক্রসিংয়ের কাছে গোলাগুলি ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার সকালের দিকে এই ক্রসিংয়ে গোলার শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেনএএফপি জানিয়েছে, আফগান সৈন্যরা সীমান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। তখন পাকিস্তানের তরফ থেকে তাদের প্রতিরোধ করা হয়।অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর স্থল সীমান্ত বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকলেও, তোরখাম ক্রসিং আফগানদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে। এই পথ দিয়ে আফগান শরনার্থীদের অনেকে পাকিস্তান থেকে ফিরে যাচ্ছেন।নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে? হতাহতের সংষ্যা নিয়ে দুই পক্ষের রিপোর্ট পরস্পরবিরোধী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক্স-এ লিখেছেন, শুক্রবার ভোরের হামলায় ১৩৩ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে ২৭টি তালেবান পোস্ট ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে। এছাড়া ৮০টিরও বেশি “ট্যাঙ্ক, আর্টিলারি অস্ত্র ও সাঁজোয়া যান” ধ্বংস হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, চলমান সংঘর্ষে পাকিস্তানের দুইজন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।অন্যদিকে তালেবান সরকার দাবি করেছে, মাত্র আটজন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন।আফগানিস্তান জানিয়েছে, আফগান বাহিনী শুক্রবার ভোরে সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি ও পোস্টে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তারা এটিকে পাকিস্তানের হামলার জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, এতে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং দুটি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি সামরিক পোস্ট দখল করা হয়েছে। পাকিস্তান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত রোববারের বিমান হামলায় অন্তত ৭০ জন “মিলিট্যান্ট” নিহত হয়েছে। তবে এই দাবি তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। মুজাহিদ বরং এক্স-এ লিখেছেন, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ ডজনখানেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে।নানগারহার প্রদেশে আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাদেশিক পরিচালক মাওলভি ফজল রহমান ফাইয়াজ বলেছেন, রোববার ১৮ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, দেশের মানুষ “ঐক্যবদ্ধভাবে প্রিয় মাতৃভূমিকে সব পরিস্থিতিতে রক্ষা করবে এবং আগ্রাসনের জবাব সাহসিকতার সঙ্গে দেবে”। কারজাই মার্কিন বাহিনীর মদদপুষ্ট প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বর্তমানে কোনো সরকারি পদে নেই কিন্তু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এখনো বিবেচিত হন।তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান সহিংসতা ও বোমা হামলা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে না। এই সমস্যাগুলো সে নিজেই সৃষ্টি করেছে। কিন্তু তাকে তার নিজস্ব নীতি পরিবর্তন করে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ, সম্মান ও সভ্য সম্পর্কের পথ বেছে নিতে হবে।” আরও পড়ুন: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত নিয়ে মুখ খুললো ভারতদুই দেশ কেন লড়াই করছে?দুই দেশের মধ্যে বর্তমান সহিংসতার এই তীব্রতা কয়েক মাসের উত্তেজনার ফলাফল।২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আলোচনা শেষে এক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তকে বলা হয় ডুরান্ড লাইন। এটি ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার (১,৬২২ মাইল) দীর্ঘ। আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয় না। তাদের দাবি, এটি ঔপনিবেশিক সময়ের চাপিয়ে দেওয়া একটি সীমান্ত, যা দুই দেশের মধ্যে বসবাসকারী পশতুন জনগোষ্ঠীর এলাকা অন্যায্যভাবে ভাগ করেছে।২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সামি ওমারি আল জাজিরাকে বলেছেন, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যায়। এরপর থেকে আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে ৭৫টিরও বেশি সংঘর্ষ হয়েছে।পাকিস্তান চায়, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান শাসক গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবানা পাকিস্তান (টিটিপি)-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করুক। টিটিপি হলো পাকিস্তানভিত্তিক একটি সশস্ত্র সংগঠন, যাদের পাকিস্তান সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবানরা এই টিপিটি যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে।টিটিপি ২০০৭ সালে পাকিস্তানে আত্মপ্রকাশ করে। আফগান তালেবানের থেকে আলাদা সংগঠন হলেও তাদের মধ্যে গভীর আদর্শিক, সামাজিক ও ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়েও আফগান তালেবানকে সহায়তা করেছে টিটিপি।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে টিটিপি এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) সশস্ত্র হামলা বড়িয়েছে। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এবং প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে এসব সহিংসতার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে।শুক্রবার পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের “গর্বিত ও দরিদ্র নাগরিকদের” বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু তিনি লিখেছেন, “এই সংঘাতে পাকিস্তানকে ঠেলে দিয়েছে তালেবান (আফগান ও পাকিস্তান অংশ)।” তিনি আরও বলেন, “সীমান্তের দুই পাশের নিরীহ বেসামরিক মানুষের স্বার্থে আমি আশা করি তালেবান পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করবে।”বিশ্লেষকদের মতে, যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাকিস্তান অভিযোগ দিয়ে আসছে তাদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা কম।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাধীন সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা এসিএলইডি-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়া বলেন, আফগান তালেবান সম্ভবত টিটিপির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে অনিচ্ছুক। কারণ দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি তারা আশঙ্কা করে যে, টিটিপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে তাদের যোদ্ধারা ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স (আইএসকেপি)-এ যোগ দিতে পারে। এই আইএসকেপি হলো বর্তমানে তালেবানের জন্য অভ্যন্তরীন সবচেয়ে বড় গলার কাটা। আরও পড়ুন: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণার অর্থ কী?পার্ল পান্ডিয়া আরও বলেন, যদি আফগানিস্তানের তালেবান টিটিপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বড় ধরনের সংঘাত “অনিবার্য”।ওয়াশিংটন ডিসির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টার-এর দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক এলিজাবেথ থ্রেলকেল্ড আল জাজিরাকে বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলো বিস্ময়কর নয়, কারণ এগুলো আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা “ক্ষয়প্রাপ্ত” উত্তেজনার ফল।তিনি বলেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থে যে এটি সম্ভবত কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে “আরও আক্রমণাত্মক ও প্রত্যক্ষ হামলা” লক্ষ্য করা গেছে।তিনি বলেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। তাই সামগ্রিক হামলার ধারাবাহিকতার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া এবং পরিস্থিতি আবার এই দিকে মোড় নেওয়া আশ্চর্যের নয়।বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ আফগানিস্তানের জন্য সুবিধাজনক হবে না। কারণ সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে তারা সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষের জন্য তুলনামূলকভাবে কম প্রস্তুত।সিঙ্গাপুরের এ রাজারত্মাম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক আবদুল বাসিত আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, আফগান তালেবানের সামরিক শক্তি পাকিস্তানের সমতুল্য নয়। এই কারণে তারা অপ্রচলিত কৌশলে হামলা চালাচ্ছে।তিনি বলেন, “তাদের কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এবং কামিকাজে ড্রোন রয়েছে। এগুলো তারা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে পারে।”এছাড়া আল জাজিরার কামাল হায়দার জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের কোনো বিমান বাহিনী নেই। তাই সীমান্ত পেরিয়ে হামলায় পাকিস্তানের সুবিধা বেশি। পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহারসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে এবং তাদের দাবি, মূল লক্ষ্য ছিল গোলাবারুদ ডিপো ও সামরিক অবকাঠামো।তিনি আরও বলেন, “এর মানে কি পাকিস্তানি সেনারা সীমান্ত অতিক্রম করবে? এটি খুবই অসম্ভাব্য। তবে সীমান্তজুড়ে গোলাগুলি অব্যাহত থাকতে পারে এবং উভয় পক্ষই ভারী আর্টিলারি ব্যবহার করতে পারে।”ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, পাকিস্তানের আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলার ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা জানায়। তিনি বলেন, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকে বাইরে স্থানান্তরের আরেকটি চেষ্টা।জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে তার মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিক জানিয়েছেন যে, দুই পক্ষকেই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে পারস্পরিক আলোচনা ও প্রতিবেশীসুলভ নীতির মাধ্যমে তাদের মতবিরোধ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।এক্স-এ দেওয়া পোস্টে বলেছেন আরাগচি বলেন, “পবিত্র রমজান মাসে, যা আত্মসংযম ও ইসলামী বিশ্বের সংহতি জোরদারের মাস, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের উচিত তাদের বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো সুপ্রতিবেশী নীতির কাঠামোর মধ্যে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা।”রাশিয়া যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে অবিলম্বে সীমান্ত পেরিয়ে হামলা বন্ধ করতে এবং কূটনৈতিক উপায়ে তাদের মতপার্থক্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বলে শুক্রবার রিয়া সংবাদ সংস্থা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে। রাশিয়া এ বিষয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।