সংসারের হাল ধরতে আর স্বচ্ছলতার আশায় মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন রবিউল ইসলাম (২৫)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। তার মৃত্যুর পর থেকে মরদেহ আটকিয়ে একটি দালাল চক্র টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ পরিবারের।এ ঘটনায় তারা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় রবিউলের মরদেহ দেশে ফেরত আনার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বন্ডপাশা গ্রামে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে রবিউলের পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় এলাকাবাসী। রবিউল ওই গ্রামের আউয়াল মোল্যার বড় ছেলে। তার আড়াই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।আরও পড়ুন: বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ফরিদপুর, আহত ২০ পরিবারের সদস্যরা জানান, ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে ৫ লাখ টাকা খরচ করে চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে পৌঁছান রবিউল ইসলাম। এর মধ্যে ২৩ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ বুকে ব্যাথা ও জ্বর হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সৌদি আরব স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এমন খবরে শোকে মূর্ছা যাচ্ছে পরিবারের লোকজন। মৃতের স্ত্রী তাপসী বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীর লাশ কোম্পানির লোক আটকিয়ে রেখেছে। সৌদিতে আমার স্বামীর এক আত্মীয় রয়েছে; তারে দিয়ে কোম্পানির লোক বলছে, এগারো হাজার রিয়াল (সাড়ে তিন লাখ টাকা) লাগবে, তাহলে লাশ দেশে যাবে। এখন আমি আমার আড়াই বছরের ছেলেকে কীভাবে বড় করব? লাশ আনার টাকাও আমাদের নেই। আমার এই ছোট বাচ্চাটা যেন ওর বাবাকে শেষ দেখাটা দেখতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন- গ্রামের মাটিতে যেন আমার স্বামীকে দাফন করতে পারি। আরও পড়ুন: ফরিদপুরে সাবেক যুবলীগ নেতার স্ত্রীর নামে দুদকের মামলা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ঘটনাটি আমি জেনেছি এবং মৃতের পাসপোর্টের কপি সংগ্রহ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তার মরদেহ আনার জন্য যোগাযোগ করেছি, ইনশাল্লাহ ব্যবস্থা হবে।