নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে বাবার থেকে ছিনিয়ে তরুণীকে হত্যার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক সাংবাদিকদের কাছে গ্রেফতারদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন।গ্রেফতাররা হলেন: সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, প্রধান আসামি নূরার চাচাত ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, একই এলাকার এবাদুল্লাহ এবং হোসেন বাজার এলাকার গাফফার।এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেন। শুক্রবার বিকালে মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।আর মেয়ে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় দেখতে চান শোকাভিভূত পরিবার।এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘অপরাধীরা যেই হউক আইনের আওতায় আনা হবে। এরইমধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকি ৪ জনকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সব আসামি গ্রেফতার হবে।এদিকে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান নরসিংদী সদরের এমপি খায়রুল কবির খোকন।আরও পড়ুন: মাধবদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা: কঠোর শাস্তির দাবি জামায়াতেরতিনি বলেন, ‘অপরাধীরা যে দলেরই হোক, যত ক্ষমতাধর হোক কেউ যেন- ছাড় না পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে বলেছি। হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূরাসহ সব আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছি।’এদিকে, এ হত্যার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মাধবদী ও নরসিংদী শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।স্থানীয়রা জানান, ১৫ বছর বসয়ী আমেনা আক্তার অনেক স্বপ্ন নিয়ে বরিশাল থেকে বাবা-মার সঙ্গে এসেছিলেন নরসিংদীতে। মাধবদী থানার বিলপাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থেকে বাবা-মা দুজনেই কাজ করতেন কারখানায়। মেয়েটিও একটি কারখানায় সম্প্রতি যোগ দিয়েছিল। সেখানেই পরিচয় হয় স্থানীয় বখাটে নূরার সঙ্গে। নূরা আমেনাকে প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও পরে গত ১৫ দিন আগে আরও ৫ বন্ধুর সমন্বয়ে মেয়েটিতে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে মহিষাশুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নিলেও পরিবারটি স্থানীয় না হওয়ায় উল্টো দোষ তোলেন মেয়েটির দিকে।তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আত্মীয় বাড়িতে যাবার পথে গত বুধবার সন্ধ্যায় সৎ পিতার কাছ থেকে কিশোরীকে ছিনিয়ে নেয়া হয়।বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে মাধবদী থানা পুলিশ।