টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের সামনে সমীকরণ কঠিন, তবে একেবারে পরিষ্কার। প্যাল্লেকেলেতে শনিবার শ্রীলঙ্কাকে শুধু হারালেই হবে না- জিততে হবে বড় ব্যবধানে। প্রায় ৬৪ রানে জয়, অথবা শ্রীলঙ্কার দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করে প্রায় ১৩.১ ওভারের মধ্যে পৌঁছাতে পারলেই কেবল সেমিফাইনালের দরজা খুলবে সালমান আগাদের সামনে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের চমকপ্রদ জয়ের ফলে পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে ক্ষীণ এক সুযোগ পেয়েছে। তবে সমস্যা একটাই- নেট রান রেট। নিউজিল্যান্ডের নেট রান রেট ১.৩৯০, যেখানে পাকিস্তানের -০.৪৬১। ফলে ব্যবধান পুষিয়ে নিতে হলে প্রায় অসম্ভব এক পারফরম্যান্স দরকার পাকিস্তানের কাছ থেকে। এই সমীকরণ পাকিস্তানকে কৌশল পাল্টাতে বাধ্য করতে পারে। মাঝের ওভারে তাদের ধীরগতির ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। বাবর আজমের জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অধিনায়ক সালমান আগাও ব্যাট হাতে ও নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। টুর্নামেন্টে পাঁচ ইনিংসে তার রান মাত্র ৬০, যার মধ্যে ৩৮ এসেছে নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে। পাকিস্তান ইতিহাস ঘাঁটলেও এমন বড় ব্যবধানে জয় খুব কমই আছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো পূর্ণ সদস্য দলের বিপক্ষে ব্যাটিং করে এত বড় ব্যবধানে জয় তাদের নেই। শ্রীলঙ্কার ধীর গতির উইকেটও বড় বাধা হতে পারে। তবুও সুযোগ যখন আছে, পাকিস্তান চাইবে সেটিকে আঁকড়ে ধরতে। শ্রীলঙ্কা এরইমধ্যে ছিটকে গেছে। টুর্নামেন্টের শুরুটা আশাব্যঞ্জক হলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর থেকেই ছন্দ হারায় তারা। টানা তিন হারে সুপার এইটে প্রথম বিদায় নিশ্চিত হয়। পাকিস্তানের সমীকরণ তাদের ভাবাচ্ছে না- নিজেদের মর্যাদা রক্ষা করাই লক্ষ্য। ২৩ বছর বয়সী বাঁ-হাতি স্পিনার দুনিথ ভেল্লালাগে এই টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার উজ্জ্বল দিক। পাকিস্তানের ডানহাতি টপ অর্ডারের বিপক্ষে তাকে শুরুতেই আনা হতে পারে। অন্যদিকে সালমান আগার সামনে এটি হতে পারে নেতৃত্ব ও নিজের জায়গা টিকিয়ে রাখার শেষ সুযোগ। পাকিস্তান যদি হতাশাজনকভাবে বিদায় নেয়, তবে তার অধিনায়কত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। শ্রীলঙ্কার কুশল মেন্ডিস হ্যামস্ট্রিং চোটে এই ম্যাচে নাও খেলতে পারেন। কামিল মিশারা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে ফিরতে পারেন। বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। পাকিস্তানের হয়ে শাহিন আফ্রিদির জায়গা প্রায় নিশ্চিত। পেস আক্রমণে নাসিম শাহ ও সালমান মির্জার মধ্যে লড়াই রয়েছে। ব্যাটিংয়ে বড় প্রশ্ন- বাবর আজমকে রাখা হবে, নাকি খাজা নাফেকে সুযোগ দেওয়া হবে? পাল্লেকেলের একই উইকেট ব্যবহার হবে, যেখানে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান ম্যাচ হয়েছিল। শুরুতে পেসাররা কিছুটা সহায়তা পেতে পারেন। ক্যান্ডিতে শুষ্ক আবহাওয়া, যা ম্যাচের দিন পর্যন্ত বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য একাদশ শ্রীলঙ্কা: পাথুম নিশাঙ্কা, কামিল মিশারা (উইকেটরক্ষক), চারিথ আসালঙ্কা, পাবন রথনায়কে, কামিন্দু মেন্ডিস, দাসুন শানাকা (অধিনায়ক), দুশান হেমন্থ, দুনিথ ভেল্লালাগে, দুশমন্থে চামিরা, মহেশ থিকসানা, দিলশান মধুশঙ্কা। পাকিস্তান: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম/খাজা নাফে, ফাখর জামান, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ/ফাহিম আশরাফ, শাহিন আফ্রিদি, সালমান মিরজা/নাসিম, উসমান তারিক। পরিসংখ্যান এটি সালমান আগার পাকিস্তান অধিনায়ক হিসেবে ৫০তম ম্যাচ। পাকিস্তানের বিপক্ষে পাথুম নিশাঙ্কার স্ট্রাইক রেট (১০১.৭০) ও গড় (১৭) তার সবচেয়ে কম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দল শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল ২০১২ সালের সেমিফাইনালে, যেখানে জয় পায় শ্রীলঙ্কা। সব মিলিয়ে, সমীকরণ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। প্রশ্ন একটাই- পাকিস্তান কি সাহসী ক্রিকেট খেলতে পারবে, নাকি রক্ষণাত্মক মানসিকতাই তাদের বিদায়ের কারণ হবে? উত্তর জানতে থাকতে হবে অপেক্ষায়। আইএইচএস/