অজু-গোসলের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি গলায় গেলে রোজা ভেঙে যাবে?

রমজান আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সংযম, ত্যাগ ও অপরের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের মাস। এ মাসে সওয়াব অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ। তাই তো ইসলামের নীতিমালা অনুযায়ী রোজা রাখতে হবে। তাহলেই পাওয়া যাবে অফুরন্ত সওয়াব।রোজা অবস্থায় অজু ও গোসলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে; যেন নাক-কান-গলায় পানি প্রবেশ করতে না পারে। কেননা যদি পানি পেটে ঢুকে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। আর রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তবে কাফফারা লাগবে না। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৬/২৬০) তবে যদি রোজার কথা স্মরণ না থাকে এবং স্মরণ না থাকার কারণেই গড়গড়া করা হয় এবং গলায় পানি চলে যায়, এতে রোজা ভাঙবে না। সুতরাং ওই রোজার কাজা-কাফফারা কোনোটিই আদায় করতে হবে না। কারণ ভুলে পানাহার করলেও রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। আরও পড়ুন: নবীজির রমজানের আমলআল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,  যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল; সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ, আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন। (মুসলিম: ১/২০২) প্রসঙ্গত, রোজা রেখে কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়া যাবে। তবে গড়গড়া করে কুলি করা এবং নাকের পানি জোড়ে টান দেয়া যাবে না। (আপকে মাসায়েল আউর উনকা হল: ২৮৩) আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,  যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল; সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ, আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন। (মুসলিম, হাদিস: ১/২০২) আরও পড়ুন: রমজান মাসে কি বিয়ে করা যাবে?ফিকহের কিতাবে রয়েছে যে, পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়; যদি রোজাদারের এ কথা মনে থাকে যে; সে রোজা রেখেছে। সুতরাং কেউ যদি রোজার কথা ভুলে গিয়ে পানাহার ও সঙ্গম করে, তবে তার রোজা ভাঙবে না। অবশ্য, স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা থেকে বিরত থাকতে হব। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ০৩, পৃষ্ঠা: ৩৬৫)