ইরানে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া এই হামলায় ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ এ অভিযানে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টিরও বেশি স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।সবচেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে রাজধানী তেহরানে। আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, তেহরানে এখন পর্যন্ত যেসব স্থান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে, সেগুলো হলো—ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, প্রেসিডেন্টের বাসভবন, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়, পরমাণু সংস্থা ও পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স। এগুলো মূলত নিরাপত্তা ও সামরিক সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এছাড়া ইরানের কোম, খোররামাবাদ, ইসপাহান, তাবরিজ ও লোরেস্তানে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও শীর্ষ সামরিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। খামেনিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে। আরও পড়ুন: ইরানে হামলার যে নাম দিলো ইসরাইল ইসরাইল এই হামলার নাম দিয়েছে ‘লায়ন’স রোর’। নামটি ঠিক করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই হামলার নাম দিয়েছে ‘শিল্ড অব যুদাহ’ যেটাকে হিব্রুতে ‘মাজেন ইয়েহুদা’ বলা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানকে লক্ষ্য করে আইডিএফ যে অভিযান চালিয়েছিল, তার নাম ছিল ‘রাইজিং লায়ন’। হামলার পর এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ বলেছেন, আগাম বা প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে থাকা হুমকি দূর করতে ইসরাইল আগাম হামলা চালিয়েছে।’ ক্যাটজ আরও জানান, এই অভিযানটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করা হয়েছে। এদিকে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরাইল সারাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে, যাতে জনগণ সতর্ক থাকতে পারে। আরও পড়ুন: ইরানে যে পথে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এছাড়া শিক্ষা কার্যক্রম, জনসমাগম এবং অপ্রয়োজনীয় কর্মস্থলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তবে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। সবশেষ তথ্য মতে, ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান।