ইরানের ওপর মার্কিন হামলা, যা বলল রাশিয়া

ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলার তীব্র সমালোচনা করে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, এই হামলার মাধ্যমে ওয়াশিংটন তাদের ‘আসল রূপ’ দেখিয়েছে।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মেদভেদেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র মূলত পরমাণু আলোচনাকে একটি ‘ছদ্মবেশ’ বা কভার-আপ হিসেবে ব্যবহার করেছে।মেদভেদেভ বলেন, ‘তথাকথিত শান্তিকামীরা আবারও তাদের আসল চেহারা দেখালো। ইরানের সঙ্গে যাবতীয় আলোচনা ছিল আসলে একটি সাজানো অপারেশন। এ নিয়ে কারোর মনেই কোনো সন্দেহ ছিল না। আসলে কেউ কখনোই কোনো বিষয়ে একমত হতে বা সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়নি।’রুশ এই শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা। আরও পড়ুন: ইরানে হামলা চালিয়ে যে বার্তা দিলেন ট্রাম্পএর আগে সকালে ইরানের অভ্যন্তরে এই যৌথ হামলা শুরু করে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের সঙ্গে মিলে এই সামরিক অভিযানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন।রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে এই অভিযান আকাশ ও সমুদ্র–উভয় পথেই পরিচালিত হচ্ছে। হামলার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয় এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের সামনেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।ইরানের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, হামলার সময় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তেহরানে ছিলেন না এবং তাকে দ্রুত একটি ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।এদিকে এই হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। দুই পক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেশী কাতার জানিয়েছে, তাদের ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এরইমধ্যে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।